পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস। রাজ্যের প্রায় সব আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে দীর্ঘদিনের জোট রাজনীতির সমীকরণ ভেঙে দিয়েছে দলটি। ২৯৪টির মধ্যে ২৮৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে কংগ্রেস জানিয়ে দিয়েছে, এবার তারা একক শক্তিতেই লড়াইয়ে নামছে।
হেভিওয়েট প্রার্থীদের নিয়ে বাড়ছে উত্তাপ
প্রকাশিত তালিকায় একাধিক পরিচিত ও প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে। বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী-কে বহরমপুর বিধানসভা আসনে প্রার্থী করা হয়েছে। পাশাপাশি মালতিপুর থেকে লড়বেন প্রাক্তন সাংসদ মৌসম বেনজির নূর, যিনি সম্প্রতি আবার কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন।
এই দুই নেতার প্রার্থী হওয়ায় মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক দলগুলোর উত্থান এই অঞ্চলে তৃণমূলের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
পুরনো জোট ভেঙে একক লড়াই
এই নির্বাচনে কংগ্রেসের এককভাবে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতদিন বামফ্রন্টের সঙ্গে সমঝোতার যে রীতি ছিল, এবার তা থেকে সরে এসেছে দলটি। এর ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

নতুন মুখ ও তরুণ নেতৃত্ব
প্রার্থী তালিকায় তরুণ ও নতুন মুখের উপস্থিতিও লক্ষণীয়। প্রাক্তন সাংসদ সোমেন মিত্রের ছেলে রোহন মিত্র বালিগঞ্জ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া রাশবিহারী থেকে অশুতোষ চট্টোপাধ্যায় এবং ভাবানীপুর থেকে প্রদীপ প্রসাদকে প্রার্থী করা হয়েছে।
ভাবানীপুর কেন্দ্রটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী লড়াইয়ে রয়েছেন।
ভোটের সূচি ও প্রস্তুতি
রাজ্যে ভোটগ্রহণ হবে দুই দফায়। প্রথম দফায় ২৩ এপ্রিল ১৫২টি আসনে ভোট হবে। এরপর দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল বাকি আসনগুলিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে।
বাংলার রাজনীতিতে এই প্রার্থী তালিকা নতুন করে সমীকরণ তৈরি করেছে। কংগ্রেসের এই কৌশল কতটা সফল হবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















