১১:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
আইওএস ২৭-এ গুগল ও অ্যান্থ্রপিকসহ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সিস্টেমে উন্মুক্ত হবে সিরি নিয়াসিন সাপ্লিমেন্টে অতিরিক্ত ভরসা নয়, বিপদে ফেলতে পারে লিভার ও রক্তে শর্করা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ টেস্ট ভেন্যু বাছাইয়ে বিতর্ক: ঐতিহ্য উপেক্ষা, প্রশ্নের মুখে ভারতের ক্রিকেট নীতি বৈদেশিক ঋণের চাপে অর্থনীতি, সমান তালে আসছে ঋণ ও পরিশোধ টঙ্গীর ফ্লাইওভারে দাউদাউ আগুনে পুড়ল চলন্ত গাড়ি, আতঙ্কে থমকে গেল ব্যস্ত সড়ক ভোটের টানে ঘরে ফিরতে মরিয়া বঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকরা, ভয়ের ছায়া নাম কাটার আতঙ্ক আসামে ভোটের আগে কংগ্রেসের ‘পাঁচ গ্যারান্টি’, ১০০ দিনে জুবিন গার্গ হত্যার বিচার প্রতিশ্রুতি পাকিস্তানের বিশ্বস্বীকৃতি: ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বড় ব্যর্থতা—জয়রাম রমেশের তীব্র আক্রমণ ভারতীয় রাজনীতিতে বড় চাল, বাংলায় ২৮৪ প্রার্থী ঘোষণা কংগ্রেসের—হেভিওয়েটদের নামেই জমল লড়াই

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস একসময় ছিল রাজনৈতিক বিতর্ক, মতপ্রকাশ এবং প্রতিবাদের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বিধিনিষেধের কারণে সেই পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রশাসনের কড়া নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ এখন অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

প্রতিবাদে নতুন নিয়ম, অনুমতির বাধ্যবাধকতা
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন নির্দেশনা জারি করে জানিয়েছে, কোনো প্রতিবাদ বা জমায়েত করতে হলে অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে লিখিত আবেদন জমা দিতে হবে। সেই আবেদনে অংশগ্রহণকারীদের নাম, পরিচয়, সম্ভাব্য উপস্থিতি, সময়সীমা এবং বক্তাদের তালিকা উল্লেখ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণাকে অনুমতি হিসেবে গণ্য করা হবে না। বাইরের লোকজনের অংশগ্রহণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে বহিষ্কার বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আইনগত প্রশ্ন ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
এই বিধিনিষেধ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠেছে। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, কোনো আশঙ্কার ভিত্তিতে সার্বিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা আইনসম্মত নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অতীতের প্রতিবাদ সংস্কৃতি ছিল ভিন্ন
প্রাক্তন শিক্ষকরা মনে করেন, একসময় প্রতিবাদ ছিল শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক অংশ। শিক্ষার্থীরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা ইস্যুতে সরব থাকত। কোনো অনুমতির প্রয়োজন হতো না, বরং আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়েই আন্দোলন গড়ে উঠত।

সেই সময় ক্যাম্পাসে খোলামেলা বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং মতবিনিময়ের পরিবেশ ছিল। শিক্ষার্থীরা নাটক, পোস্টার বা সরাসরি বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরত। সহিংসতার বদলে যুক্তি ও সংলাপই ছিল প্রধান মাধ্যম।

বর্তমান বাস্তবতায় ভয়ের পরিবেশ
বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করছেন, এখন ক্যাম্পাসে আগের মতো স্বাধীনতা নেই। অনেকেই প্রতিবাদে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন। গ্রেপ্তার, নজরদারি বা প্রশাসনিক শাস্তির আশঙ্কা তাদের নিরুৎসাহিত করছে।

অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, এখন আলোচনা সীমাবদ্ধ ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে। প্রকাশ্যে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই ভীতি বেশি দেখা যাচ্ছে।

প্রশাসনের যুক্তি: নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, পূর্ব অনুমতি থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হয় এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

তারা দাবি করছে, প্রতিবাদ বন্ধ করা হচ্ছে না, বরং তা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এতে সংঘর্ষ এড়ানো যাবে এবং ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় থাকবে।

একাংশের মতে, তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিবাদ করতে দেরি হলে আন্দোলনের গুরুত্ব হারিয়ে যায়। অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, পরিকল্পিত প্রতিবাদই বেশি কার্যকর।

ক্যাম্পাসের পরিবর্তিত চিত্র
একসময় যে জায়গাগুলোতে নিয়মিত স্লোগান, আলোচনা এবং সমাবেশ হতো, এখন সেখানে নীরবতা বেশি চোখে পড়ে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যাওয়া-আসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত কমে গেছে।

এই পরিবর্তন শুধু প্রতিবাদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বৌদ্ধিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

আইওএস ২৭-এ গুগল ও অ্যান্থ্রপিকসহ প্রতিদ্বন্দ্বী এআই সিস্টেমে উন্মুক্ত হবে সিরি

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদের স্বাধীনতা সংকুচিত, নতুন নিয়মে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ

০৯:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস একসময় ছিল রাজনৈতিক বিতর্ক, মতপ্রকাশ এবং প্রতিবাদের প্রাণকেন্দ্র। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন বিধিনিষেধের কারণে সেই পরিবেশে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রশাসনের কড়া নিয়মের ফলে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ এখন অনেকটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

প্রতিবাদে নতুন নিয়ম, অনুমতির বাধ্যবাধকতা
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নতুন নির্দেশনা জারি করে জানিয়েছে, কোনো প্রতিবাদ বা জমায়েত করতে হলে অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে লিখিত আবেদন জমা দিতে হবে। সেই আবেদনে অংশগ্রহণকারীদের নাম, পরিচয়, সম্ভাব্য উপস্থিতি, সময়সীমা এবং বক্তাদের তালিকা উল্লেখ করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণাকে অনুমতি হিসেবে গণ্য করা হবে না। বাইরের লোকজনের অংশগ্রহণও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে বহিষ্কার বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আইনগত প্রশ্ন ও আদালতের পর্যবেক্ষণ
এই বিধিনিষেধ নিয়ে আদালতে প্রশ্ন উঠেছে। বিচারপতিরা জানিয়েছেন, কোনো আশঙ্কার ভিত্তিতে সার্বিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা আইনসম্মত নয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

অতীতের প্রতিবাদ সংস্কৃতি ছিল ভিন্ন
প্রাক্তন শিক্ষকরা মনে করেন, একসময় প্রতিবাদ ছিল শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক অংশ। শিক্ষার্থীরা শুধু রাজনৈতিক বিষয় নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নানা ইস্যুতে সরব থাকত। কোনো অনুমতির প্রয়োজন হতো না, বরং আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়েই আন্দোলন গড়ে উঠত।

সেই সময় ক্যাম্পাসে খোলামেলা বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং মতবিনিময়ের পরিবেশ ছিল। শিক্ষার্থীরা নাটক, পোস্টার বা সরাসরি বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরত। সহিংসতার বদলে যুক্তি ও সংলাপই ছিল প্রধান মাধ্যম।

বর্তমান বাস্তবতায় ভয়ের পরিবেশ
বর্তমান শিক্ষার্থীদের অনেকেই মনে করছেন, এখন ক্যাম্পাসে আগের মতো স্বাধীনতা নেই। অনেকেই প্রতিবাদে অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন। গ্রেপ্তার, নজরদারি বা প্রশাসনিক শাস্তির আশঙ্কা তাদের নিরুৎসাহিত করছে।

অনেক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, এখন আলোচনা সীমাবদ্ধ ছোট গোষ্ঠীর মধ্যে। প্রকাশ্যে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কাজ করছে। নতুন শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এই ভীতি বেশি দেখা যাচ্ছে।

প্রশাসনের যুক্তি: নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, সাম্প্রতিক কিছু সহিংস ঘটনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, পূর্ব অনুমতি থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হয় এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

তারা দাবি করছে, প্রতিবাদ বন্ধ করা হচ্ছে না, বরং তা সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে মতভেদ
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে। কেউ এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, এতে সংঘর্ষ এড়ানো যাবে এবং ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় থাকবে।

একাংশের মতে, তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিবাদ করতে দেরি হলে আন্দোলনের গুরুত্ব হারিয়ে যায়। অন্যদিকে সমর্থকরা বলছেন, পরিকল্পিত প্রতিবাদই বেশি কার্যকর।

ক্যাম্পাসের পরিবর্তিত চিত্র
একসময় যে জায়গাগুলোতে নিয়মিত স্লোগান, আলোচনা এবং সমাবেশ হতো, এখন সেখানে নীরবতা বেশি চোখে পড়ে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যাওয়া-আসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে, স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত কমে গেছে।

এই পরিবর্তন শুধু প্রতিবাদের ক্ষেত্রেই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বৌদ্ধিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকেই।