সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘায়ু আর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণের আশায় অনেকেই এখন নিয়াসিন বা ভিটামিন বি৩ সাপ্লিমেন্ট বেশি মাত্রায় নিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকদের সতর্কতা, এই প্রবণতা শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি ডেকে আনছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে উচ্চমাত্রায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে লিভারের ক্ষতি, রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া এবং নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
কেন বাড়ছে নিয়াসিনের চাহিদা
সম্প্রতি দীর্ঘায়ু নিয়ে আগ্রহীদের মধ্যে নিয়াসিন নিয়ে আলোচনা বেড়েছে। শরীরের প্রতিটি কোষে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান তৈরিতে এই ভিটামিনের ভূমিকা রয়েছে, যা শক্তি উৎপাদন, কোষ মেরামত এবং চাপ সামলাতে সহায়তা করে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই উপাদানের মাত্রা কমে যায়, তাই অনেকে মনে করেন সাপ্লিমেন্ট নিলে বার্ধক্য ধীর হতে পারে।
বাস্তবতা কী বলছে
গবেষণাগারে কিছু ইতিবাচক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে দীর্ঘায়ু বাড়ানোর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনো নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, বার্ধক্য একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা শুধু একটি ভিটামিনের উপর নির্ভর করে না। জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশ—সবকিছুর প্রভাব রয়েছে এতে।
অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্টের ঝুঁকি
চিকিৎসকদের কাছে এমন রোগী আসছেন, যারা নিজে থেকেই বেশি মাত্রায় নিয়াসিন নিচ্ছেন এবং পরে ত্বক লাল হওয়া, চুলকানি, বমিভাব ও পেটব্যথার মতো সমস্যায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রে লিভারের এনজাইম বেড়ে যাওয়া এবং রক্তে শর্করা বৃদ্ধিও দেখা গেছে। অতিরিক্ত মাত্রায় এই ভিটামিন লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, ফলে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
![]()
কেন লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়
যদিও নিয়াসিন পানিতে দ্রবণীয়, তবুও শরীর থেকে বের হওয়ার আগে এটি লিভারে প্রক্রিয়াজাত হয়। খুব বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে লিভার অতিরিক্ত চাপ সামলাতে পারে না এবং ক্ষতিকর উপাদান জমে যেতে শুরু করে। ফলে লিভারের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।
দৈনন্দিন প্রয়োজন বনাম সাপ্লিমেন্ট
সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক চাহিদা খুবই কম, যা নিয়মিত খাবার থেকেই পূরণ সম্ভব। কিন্তু সাপ্লিমেন্টে অনেক সময় এই মাত্রা কয়েকশো গুণ বেশি থাকে। তখন শরীর এটিকে সাধারণ ভিটামিন নয়, বরং ওষুধের মতো আচরণ করে।
কাদের জন্য প্রয়োজন
বিশেষ পরিস্থিতিতে, যেমন ভিটামিনের ঘাটতি বা নির্দিষ্ট চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। তবে সুস্থ মানুষের জন্য আলাদা করে এটি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়ামই দীর্ঘ সুস্থ জীবনের মূল চাবিকাঠি।
শেষ কথা
নিয়াসিন শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়। অতিরিক্ত গ্রহণের ঝুঁকি বুঝে সচেতন হওয়াই এখন সময়ের দাবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















