পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট সামনে, আর সেই ভোট ঘিরেই দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও তাড়না। বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তাদের অনেককেই বাধ্য করছে যেকোনোভাবে ঘরে ফিরতে।
ভোটের টান আর অনিশ্চয়তার ভয়
দেশের নানা প্রান্তে কাজ করা শ্রমিক থেকে শুরু করে পেশাজীবীরা বলছেন, এবার ভোট শুধু একটি সাধারণ নির্বাচন নয়, বরং ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্ন। অনেকেই মনে করছেন, ভোট দিতে না পারলে ভবিষ্যতে নাগরিক অধিকার নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। গত বছর বিভিন্ন রাজ্যে বহু পরিযায়ীকে বাংলাদেশি সন্দেহে হয়রানির ঘটনাও তাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
টিকিট সংকট ও বাড়তি খরচে ভোগান্তি
মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, পুনে বা গুজরাট—সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও খরচ অনেক বেশি। অনেকেই বাধ্য হয়ে সাধারণ টিকিটে ভিড়ের মধ্যে যাত্রার ঝুঁকি নিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার ট্রেনের সঙ্গে বাস মিলিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে শ্রমিকদের ওপর
একাধিকবার ঘরে ফেরার প্রয়োজন, ভোট সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া—সব মিলিয়ে বাড়ছে খরচ। কম আয়ের শ্রমিকদের জন্য এই পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে বড় আর্থিক চাপের কারণ। অনেকের পক্ষেই এই খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
শিল্পক্ষেত্রে শ্রমিক সংকট
বিপুল সংখ্যক শ্রমিক ঘরে ফেরায় গুজরাটের গয়না শিল্প, সূচিকর্ম শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে গেছে। পাঞ্জাবের কৃষিক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়েছে, বিশেষ করে আলু তোলার মৌসুমে শ্রমিকের অভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
পরিযায়ী শ্রমিকদের বাস্তবতা
দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ বঙ্গীয় পরিযায়ী বিভিন্ন খাতে কাজ করেন। তাদের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম রেল হলেও সারা বছরই টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে থাকে। নির্বাচনের সময় এই চাপ আরও বেড়ে যায়, ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ভোট মানেই ভবিষ্যতের নিরাপত্তা
অনেক পরিযায়ী শ্রমিকের কাছে এবার ভোট শুধুই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিজের পরিচয় ও অধিকার রক্ষার লড়াই। তাই সব বাধা পেরিয়ে ঘরে ফেরার এই তাড়না ক্রমেই বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















