ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের ভেন্যু নির্বাচন ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী মাঠগুলোকে উপেক্ষা করে নতুন কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্তে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে—আসলেই কি ন্যায্যভাবে পরিচালিত হচ্ছে ভেন্যু নির্বাচন ব্যবস্থা?
ঐতিহ্যের মাঠে নীরবতা
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্স কিংবা মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে—যেখানে ইতিহাস লেখা হয়েছিল, সেই মাঠগুলো এখন যেন উপেক্ষিত। বিশেষ করে ২০০১ সালের সেই ঐতিহাসিক টেস্ট, যেখানে ভিভিএস লক্ষ্মণ ও রাহুল দ্রাবিড়ের অসাধারণ জুটিতে ভারত অসম্ভবকে সম্ভব করেছিল, আজও ক্রিকেট ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। কিন্তু সেই মাঠেই গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্ট হয়নি, যা ভক্তদের হতাশ করেছে।
নতুন ভেন্যুর উত্থান
সাম্প্রতিক ঘোষণায় দেখা গেছে, আগামী সিরিজে ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রের বদলে নাগপুর, রাঁচি, গুয়াহাটি ও আহমেদাবাদের মতো মাঠকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আহমেদাবাদের বিশাল স্টেডিয়াম নিয়মিত বড় ম্যাচ পাচ্ছে, যেখানে ধারণক্ষমতা বড় হলেও প্রশ্ন উঠছে—এটি কি টেস্ট ক্রিকেটের জন্য যথার্থ পরিবেশ তৈরি করতে পারছে?

রোটেশন নীতি কি কাগজেই সীমাবদ্ধ?
ভারতের ক্রিকেট বোর্ড একসময় রোটেশন নীতি চালু করেছিল যাতে সব রাজ্য সমান সুযোগ পায়। কিন্তু এখন সেই নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই নীতি এখন শুধুই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।
দর্শক কমে যাওয়ার বাস্তবতা
ভারতে টেস্ট ক্রিকেটের দর্শকসংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। ফলে কোথায় ম্যাচ আয়োজন করলে দর্শক বেশি পাওয়া যাবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যেসব ঐতিহাসিক মাঠে এখনও আবেগ ও আগ্রহ রয়েছে, সেগুলোকে উপেক্ষা করলে কি টেস্ট ক্রিকেট আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে না?
ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র নতুন ভেন্যু বা প্রশাসনিক প্রভাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে টেস্ট ক্রিকেটের ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বড় ম্যাচ যদি ফাঁকা গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে খেলোয়াড়দের উৎসাহও কমে যেতে পারে। তাই ন্যায্যতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















