অসলোতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের বাইরে ঘটে যাওয়া একটি বিস্ফোরণের ঘটনা সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে তদন্ত করছে নরওয়ের পুলিশ। রবিবার ভোরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
বিস্ফোরণের ঘটনা ও প্রাথমিক তথ্য
রবিবার ভোর প্রায় ১টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দূতাবাসের কূটনৈতিক কম্পাউন্ডের প্রবেশপথে সামান্য ক্ষতি হয়েছে।
অসলো পুলিশের অপারেশনাল সার্ভিস প্রধান গ্রেতে মেটলিদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে একটি বিস্ফোরক বস্তু ভবনের দিকে ছুড়ে মারা হয়েছিল। ঘটনাস্থলের ছবিতে প্রবেশপথের কাছে ভাঙা কাচ ও পড়ে থাকা বাতি দেখা গেছে।

সন্দেহজনক ভিডিও ও তদন্ত
বিস্ফোরণের কিছুক্ষণের মধ্যেই দূতাবাসের গুগল ম্যাপস পাতায় একটি ভিডিও দেখা যায়। সেখানে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি এবং আরবি ভাষায় একটি বার্তা ছিল, যার অর্থ “আল্লাহ মহান, আমরা বিজয়ী।”
পুলিশ জানিয়েছে, ওই ভিডিও সম্পর্কে তারা অবগত রয়েছে এবং এটিকে তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অসলো পুলিশের তদন্ত ও গোয়েন্দা ইউনিটের প্রধান ফ্রোদে লারসেন নরওয়ের গণমাধ্যমকে জানান, সম্ভাব্য একটি ধারণা হলো এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হতে পারে।
নিরাপত্তা সংস্থার তদন্ত
নরওয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা পিএসটি এই ঘটনার তদন্তে যুক্ত হয়েছে। ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দূতাবাসের আশপাশে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার প্রভাব
ফেব্রুয়ারি ২৮ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
এই হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
খবর অনুযায়ী, দুবাই ও রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোও ইরানি ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরব, লেবানন এবং কুয়েতে তাদের দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অঞ্চল ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
প্রতিবাদ ও প্রাণহানির ঘটনা
১ মার্চ পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের দিকে অগ্রসর হওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর মার্কিন মেরিন সদস্যরা গুলি চালালে অন্তত ১০ জন নিহত হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৩২ হাজারেরও বেশি মার্কিন নাগরিক নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
ট্রাম্পের কড়া বার্তা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কয়েক সপ্তাহব্যাপী সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















