০৪:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬
শুধু দরিদ্রদের জন্য স্কুল নয়, দরকার সবার জন্য সমতার শিক্ষা গুগলের শান্ত অধিনায়ক সুন্দর পিচাই: এআই ঝড়ে নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় লন্ডনের নদী বাঁচাতে ‘সুপার সিউয়ার’: শতবর্ষ পুরোনো সংকটের আধুনিক সমাধান এনবিআরের ‘হয়রানি’ অভিযোগে অটোখাতে সংকটের শঙ্কা, যুক্তিসঙ্গত শুল্ক কাঠামোর দাবি বারভিডার সাতক্ষীরার উন্নয়নে ১৬ দফা দাবি: ঢাকায় যুবকদের মানববন্ধনে জোরালো বার্তা ধানমন্ডিতে ১১ তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু ৬১% আমেরিকানের চোখে ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে আইবিএমের ঝড়: ভবিষ্যতের প্রযুক্তি কি বদলে দেবে সবকিছু? মস্তিষ্কের সংকেতেই চলবে প্রযুক্তি, পক্ষাঘাতগ্রস্তদের নতুন আশার নাম ‘সিঙ্ক্রন’ মেট গালার থিমে শরীরের ভাষা: পাঁচ নারী শিল্পীর দৃষ্টিতে নতুন শিল্পভাবনা

ভারতের ‘পিছিয়ে পড়া’ মেয়েদের স্কুলে ফেরানোর লড়াই, সাফিনা হুসাইনের আন্দোলনে বদলাচ্ছে লক্ষ জীবন

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামে যে মেয়েরা শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়েছিল, তাদের জীবনে নতুন আলো জ্বালানোর সংগ্রাম এখন এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছেন শিক্ষাকর্মী সাফিনা হুসাইন। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা সংগঠন ইতিমধ্যে লাখো মেয়েকে আবার স্কুলে ফিরিয়ে এনেছে। শিক্ষা বঞ্চিত মেয়েদের জন্য এই আন্দোলন এখন ভারতের সামাজিক পরিবর্তনের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুই মিলিয়নের বেশি মেয়ের জীবনে শিক্ষা

মুম্বাইভিত্তিক সাফিনা হুসাইনের সংগঠন ‘এডুকেট গার্লস’ ভারতের দূরবর্তী গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। গত কয়েক বছরে সংগঠনটি দুই মিলিয়নেরও বেশি মেয়েকে আবার স্কুলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

২০১৯ সালে একটি আন্তর্জাতিক সামাজিক উদ্যোগের সহায়তায় সংগঠনটি লক্ষ্য স্থির করেছিল স্কুলের বাইরে থাকা ১৫ লাখ মেয়েকে শিক্ষার আওতায় আনার। ২০২৫ সালে সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পরও তাদের কাজ থেমে থাকেনি। বরং নতুন উদ্যমে আরও মেয়েকে শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলতে থাকে।

ব্যক্তিগত সংগ্রাম থেকেই প্রেরণা

সাফিনা হুসাইনের এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে তাঁর নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা। শৈশবে দারিদ্র্য, সহিংসতা ও নানা সংকটের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। সেই কারণে ছোট বয়সেই তাঁর পড়াশোনায় একাধিকবার বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।

পরবর্তীতে পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি। দীর্ঘ সময় সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকার পর দেশে ফিরে মেয়েদের শিক্ষার জন্য এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

সাফিনা বলেন, স্কুলের বাইরে থাকা মেয়েদের কষ্ট তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝেন। তাই শুরু থেকেই তাঁর কাজের কেন্দ্রবিন্দু ছিল সেই মেয়েরাই, যারা সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।

‘শেষ মেয়েটির’ গল্প থেকে আন্দোলনের বার্তা

সম্প্রতি সাফিনা হুসাইন তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছেন। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘অন্তিমবালা’ নামের এক মেয়েকে। নামটির অর্থই হলো ‘শেষ মেয়ে’। পরিবারের আশা ছিল, সে যেন তাদের শেষ কন্যাসন্তান হয়।

এই গল্পের মাধ্যমে সাফিনা দেখাতে চেয়েছেন, কীভাবে সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা বৈষম্য মেয়েদের শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এখনও বড় চ্যালেঞ্জ

একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে স্কুলপড়ুয়া বয়সের প্রায় ১৬ শতাংশ মেয়ে এখনও শিক্ষার বাইরে রয়েছে। এই বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে সাফিনা হুসাইনের সংগঠন।

তাদের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে এক কোটি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো। তবে তাঁর মতে, সমস্যা শুধু ভারতের নয়, সারা বিশ্বের। এখনও প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ মেয়ে স্কুলের বাইরে রয়েছে।

সাফিনা বলেন, তিনি কখনও এমন কোনো মেয়ের সঙ্গে দেখা করেননি যে স্কুলে যেতে চায় না। প্রতিটি মেয়েই পড়াশোনা করতে চায়, স্বপ্ন দেখতে চায়, নিজের জীবন গড়তে চায়। কিন্তু সুযোগের অভাবই তাদের আটকে দেয়।

শিক্ষা দিয়ে বদলানোর স্বপ্ন

এই বাস্তবতা বদলাতেই কাজ করছেন সাফিনা হুসাইন। তাঁর বিশ্বাস, একটি মেয়েকে শিক্ষিত করা মানে শুধু একটি জীবন নয়, একটি পুরো সমাজকে বদলে দেওয়া।

জনপ্রিয় সংবাদ

শুধু দরিদ্রদের জন্য স্কুল নয়, দরকার সবার জন্য সমতার শিক্ষা

ভারতের ‘পিছিয়ে পড়া’ মেয়েদের স্কুলে ফেরানোর লড়াই, সাফিনা হুসাইনের আন্দোলনে বদলাচ্ছে লক্ষ জীবন

১০:০০:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামে যে মেয়েরা শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়েছিল, তাদের জীবনে নতুন আলো জ্বালানোর সংগ্রাম এখন এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে আছেন শিক্ষাকর্মী সাফিনা হুসাইন। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা সংগঠন ইতিমধ্যে লাখো মেয়েকে আবার স্কুলে ফিরিয়ে এনেছে। শিক্ষা বঞ্চিত মেয়েদের জন্য এই আন্দোলন এখন ভারতের সামাজিক পরিবর্তনের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুই মিলিয়নের বেশি মেয়ের জীবনে শিক্ষা

মুম্বাইভিত্তিক সাফিনা হুসাইনের সংগঠন ‘এডুকেট গার্লস’ ভারতের দূরবর্তী গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। গত কয়েক বছরে সংগঠনটি দুই মিলিয়নেরও বেশি মেয়েকে আবার স্কুলে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

২০১৯ সালে একটি আন্তর্জাতিক সামাজিক উদ্যোগের সহায়তায় সংগঠনটি লক্ষ্য স্থির করেছিল স্কুলের বাইরে থাকা ১৫ লাখ মেয়েকে শিক্ষার আওতায় আনার। ২০২৫ সালে সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পরও তাদের কাজ থেমে থাকেনি। বরং নতুন উদ্যমে আরও মেয়েকে শিক্ষায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলতে থাকে।

ব্যক্তিগত সংগ্রাম থেকেই প্রেরণা

সাফিনা হুসাইনের এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে তাঁর নিজের জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা। শৈশবে দারিদ্র্য, সহিংসতা ও নানা সংকটের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। সেই কারণে ছোট বয়সেই তাঁর পড়াশোনায় একাধিকবার বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।

পরবর্তীতে পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ পান তিনি। দীর্ঘ সময় সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকার পর দেশে ফিরে মেয়েদের শিক্ষার জন্য এই সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।

সাফিনা বলেন, স্কুলের বাইরে থাকা মেয়েদের কষ্ট তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই বোঝেন। তাই শুরু থেকেই তাঁর কাজের কেন্দ্রবিন্দু ছিল সেই মেয়েরাই, যারা সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত।

‘শেষ মেয়েটির’ গল্প থেকে আন্দোলনের বার্তা

সম্প্রতি সাফিনা হুসাইন তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছেন। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে ‘অন্তিমবালা’ নামের এক মেয়েকে। নামটির অর্থই হলো ‘শেষ মেয়ে’। পরিবারের আশা ছিল, সে যেন তাদের শেষ কন্যাসন্তান হয়।

এই গল্পের মাধ্যমে সাফিনা দেখাতে চেয়েছেন, কীভাবে সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা বৈষম্য মেয়েদের শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এখনও বড় চ্যালেঞ্জ

একটি আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে স্কুলপড়ুয়া বয়সের প্রায় ১৬ শতাংশ মেয়ে এখনও শিক্ষার বাইরে রয়েছে। এই বৈষম্য কমানোর লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে সাফিনা হুসাইনের সংগঠন।

তাদের লক্ষ্য ২০৩৫ সালের মধ্যে এক কোটি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো। তবে তাঁর মতে, সমস্যা শুধু ভারতের নয়, সারা বিশ্বের। এখনও প্রায় ১৩ কোটি ৩০ লাখ মেয়ে স্কুলের বাইরে রয়েছে।

সাফিনা বলেন, তিনি কখনও এমন কোনো মেয়ের সঙ্গে দেখা করেননি যে স্কুলে যেতে চায় না। প্রতিটি মেয়েই পড়াশোনা করতে চায়, স্বপ্ন দেখতে চায়, নিজের জীবন গড়তে চায়। কিন্তু সুযোগের অভাবই তাদের আটকে দেয়।

শিক্ষা দিয়ে বদলানোর স্বপ্ন

এই বাস্তবতা বদলাতেই কাজ করছেন সাফিনা হুসাইন। তাঁর বিশ্বাস, একটি মেয়েকে শিক্ষিত করা মানে শুধু একটি জীবন নয়, একটি পুরো সমাজকে বদলে দেওয়া।