ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের জেরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আদানায় অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট থেকে কূটনীতিক ও তাদের পরিবারকে বাধ্যতামূলকভাবে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। এই সিদ্ধান্তে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
আদানায় কূটনীতিকদের বাধ্যতামূলক প্রত্যাহার
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আদানায় অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট থেকে মার্কিন কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বাধ্যতামূলকভাবে সরে যেতে হবে। সম্প্রতি দুটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এই নির্দেশের ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন কূটনৈতিক উপস্থিতি সাময়িকভাবে সীমিত হয়ে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আদানা কনস্যুলেট থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন।
এর আগে একই ধরনের নির্দেশনা জারি করে মার্কিন কূটনীতিকদের সৌদি আরব, ইরাক, জর্ডান, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং লেবাননে অবস্থিত মিশনগুলো থেকেও সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তগুলো প্রমাণ করছে যে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। কূটনৈতিক মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের বিস্তার এবং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি বাড়ার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















