০৫:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
যুদ্ধের ছায়ায় দামের অনিশ্চয়তা: স্থিতিশীল মূল্যস্ফীতি, তবু বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা তেলের বাজারে বড় পদক্ষেপ: যুদ্ধের উত্তাপে ৪০ কোটি ব্যারেল মজুত তেল ছাড়ছে বিশ্ব হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা চরমে, জাহাজে হামলা বাড়িয়ে দিল ইরান—বিশ্ব তেলের বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা ডুবছে বিশ্বের নদীবিধৌত শহর: সমুদ্র নয়, মাটিই হয়ে উঠছে নতুন জলবায়ু সংকট মধ্যবয়সের একাকীত্ব ভাঙতে অ্যাপ! নতুন ধারার নাটক ‘ডিটিএফ সেন্ট লুইস’ ঘিরে আলোচনা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন আহমেদ আজম খান নওগাঁয় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভারতে রান্নার গ্যাস সংকটে বদলে যাচ্ছে খাবারের তালিকা

চীনের শিল্পনীতি এখন বিশ্বমুখী, মুক্তবাজারের দীর্ঘদিনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ

চীনের শিল্পনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুনভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং তা এখন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। একসময় যেখানে মুক্তবাজার অর্থনীতিই ছিল প্রধান মতবাদ, সেখানে এখন শিল্পনীতির ধারণা আবার সামনে এসেছে। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অর্থনীতিবিদদের দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবং বাস্তব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতা।

এক দশক আগের স্মরণীয় বিতর্ক

চীনের অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ হুয়াং ইপিং তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু নীতি-সংক্রান্ত আলোচনা ও উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। তবে তাঁর কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে প্রায় এক দশক আগে পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা।

সাধারণত একাডেমিক বিতর্কগুলো সীমিত পরিসরের হয় এবং উপস্থিতিও কম থাকে। কিন্তু ২০১৬ সালের নভেম্বরের সেই বিকেলটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের আসন কয়েক মিনিটের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায়। দেশজুড়ে আলোচিত এক বিতর্ক প্রত্যক্ষ করতে মানুষ ভিড় জমিয়েছিল।

Open Questions | Justin Lin Yifu on China's third plenum, overcapacity and  avoiding Japan's fate | South China Morning Post

দুই অর্থনীতিবিদের মুখোমুখি অবস্থান

এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল চীনের দুই প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ জাস্টিন লিন ইফু এবং ঝাং ওয়েইইং-এর বিরল মুখোমুখি বিতর্ক। চীনের অর্থনীতি কীভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত—এই প্রশ্নে তাঁদের মতামত ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ঝাং ওয়েইইং ছিলেন মুক্তবাজার অর্থনীতির শক্ত সমর্থক। ১৯৮০-এর দশক থেকে বিশ্বজুড়ে এই মতবাদ প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।

অন্যদিকে জাস্টিন লিন ইফু সমর্থন করতেন শিল্পনীতিকে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে শিল্পখাতকে শক্তিশালী করা এবং নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চীনে ধারণার পরিবর্তন

এই বিতর্কের সঞ্চালক ছিলেন হুয়াং ইপিং। তিনি বর্তমানে পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্কুল অব ডেভেলপমেন্টের ডিন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Analysis of India's Current Industrial Policy and the Way Forward - Niti  Tantra

পেছনে ফিরে তাকালে তাঁর কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর মনে হয় চীনের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ কতটা বদলে গেছে। তিনি স্মরণ করেন, সেই সময় অনেক গবেষক ও অর্থনীতিবিদ শিল্পনীতির পক্ষে খুব বেশি সমর্থন দেননি।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। হুয়াং ইপিংয়ের মতে, এখন অনেক উন্নত বাজার অর্থনীতিতেও বাজারের সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে বিভিন্ন দেশে শিল্পনীতির ব্যবহারও বাড়ছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন বাস্তবতা

চীনের এই পরিবর্তন শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ছে। মুক্তবাজারের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের পাশাপাশি এখন রাষ্ট্রনির্ভর শিল্পনীতি আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুদ্ধের ছায়ায় দামের অনিশ্চয়তা: স্থিতিশীল মূল্যস্ফীতি, তবু বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা

চীনের শিল্পনীতি এখন বিশ্বমুখী, মুক্তবাজারের দীর্ঘদিনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ

০৩:৫০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

চীনের শিল্পনীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নতুনভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে এবং তা এখন আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। একসময় যেখানে মুক্তবাজার অর্থনীতিই ছিল প্রধান মতবাদ, সেখানে এখন শিল্পনীতির ধারণা আবার সামনে এসেছে। এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অর্থনীতিবিদদের দীর্ঘদিনের বিতর্ক এবং বাস্তব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতা।

এক দশক আগের স্মরণীয় বিতর্ক

চীনের অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ হুয়াং ইপিং তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে বহু নীতি-সংক্রান্ত আলোচনা ও উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। তবে তাঁর কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছে প্রায় এক দশক আগে পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা।

সাধারণত একাডেমিক বিতর্কগুলো সীমিত পরিসরের হয় এবং উপস্থিতিও কম থাকে। কিন্তু ২০১৬ সালের নভেম্বরের সেই বিকেলটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামের আসন কয়েক মিনিটের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায়। দেশজুড়ে আলোচিত এক বিতর্ক প্রত্যক্ষ করতে মানুষ ভিড় জমিয়েছিল।

Open Questions | Justin Lin Yifu on China's third plenum, overcapacity and  avoiding Japan's fate | South China Morning Post

দুই অর্থনীতিবিদের মুখোমুখি অবস্থান

এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল চীনের দুই প্রভাবশালী অর্থনীতিবিদ জাস্টিন লিন ইফু এবং ঝাং ওয়েইইং-এর বিরল মুখোমুখি বিতর্ক। চীনের অর্থনীতি কীভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত—এই প্রশ্নে তাঁদের মতামত ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ঝাং ওয়েইইং ছিলেন মুক্তবাজার অর্থনীতির শক্ত সমর্থক। ১৯৮০-এর দশক থেকে বিশ্বজুড়ে এই মতবাদ প্রভাব বিস্তার করে আসছিল।

অন্যদিকে জাস্টিন লিন ইফু সমর্থন করতেন শিল্পনীতিকে। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে শিল্পখাতকে শক্তিশালী করা এবং নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

চীনে ধারণার পরিবর্তন

এই বিতর্কের সঞ্চালক ছিলেন হুয়াং ইপিং। তিনি বর্তমানে পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল স্কুল অব ডেভেলপমেন্টের ডিন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Analysis of India's Current Industrial Policy and the Way Forward - Niti  Tantra

পেছনে ফিরে তাকালে তাঁর কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর মনে হয় চীনের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ কতটা বদলে গেছে। তিনি স্মরণ করেন, সেই সময় অনেক গবেষক ও অর্থনীতিবিদ শিল্পনীতির পক্ষে খুব বেশি সমর্থন দেননি।

তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। হুয়াং ইপিংয়ের মতে, এখন অনেক উন্নত বাজার অর্থনীতিতেও বাজারের সীমাবদ্ধতা বা ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ফলে বিভিন্ন দেশে শিল্পনীতির ব্যবহারও বাড়ছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন বাস্তবতা

চীনের এই পরিবর্তন শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ছে। মুক্তবাজারের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের পাশাপাশি এখন রাষ্ট্রনির্ভর শিল্পনীতি আবার আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।