০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
ইতিবাচক ধারায় সপ্তাহ শেষ করল ডিএসই ও সিএসই সূচক মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দম্পতির মৃত্যু বাগেরহাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: একই পরিবারের ১০ জনসহ নিহত ১২ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে সৌদি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ ভারতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে: সতর্ক করলেন রাহুল গান্ধী ইসরায়েলের হামলা বন্ধের আহ্বান তুরস্কের তেলবাহী জাহাজকে এখনই নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রথম বার্তা শিগগির প্রকাশ পাটুরিয়ায় নদীতে পড়া তেলবাহী ট্রাক উদ্ধার অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন

সংসদে খালেদা জিয়া, খামেনি ,মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রথম দিনে সর্বসম্মতভাবে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এতে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক ৩১ জন সংসদ সদস্য এবং দেশের ও বিশ্বের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এই শোক প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করেন। সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা
শোক প্রস্তাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও বিশ্বের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে।

তাদের মধ্যে ছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

সাবেক সংসদ সদস্যদের স্মরণ
শোক প্রস্তাবে বিভিন্ন দলের সাবেক সংসদ সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিলেন বিএনপির ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী, নাদিম মোস্তফা, শহীদুজ্জামান বেল্টু, এসএ খালেক, আবদুল মোমিন তালুকদার, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অনেকে।

এছাড়াও ওয়ার্কার্স পার্টির শহিদুল্লাহ শহীদ, সংসদের সাবেক উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, আবদুল মান্নান খান, সুকুমার রঞ্জন ঘোষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাবেক সদস্যদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় প্রধান কেএম শফিউল্লাহ বীর উত্তমের নামও এতে উল্লেখ করা হয়।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মরণ
সংসদ ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনে যারা ভোটাধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানায়।

এই সময়ে গুম ও হত্যার শিকার হওয়া বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী এবং বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অন্যদের স্মরণ করা হয়।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ২০২৪ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
সংসদ জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ, মির মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শাহরিয়ার খান আনাস, মেহেদী হাসান জুনায়েদ ও ফারহান ফাইয়াজসহ শহীদদের প্রতিও গভীর শোক প্রকাশ করে।

এছাড়া ২০২৫ সালের ২১ জুলাই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত (মরণোত্তর) শিক্ষক মাহেরিন চৌধুরীকে স্মরণ করা হয়।

পাশাপাশি ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের এবং ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে নিহতদের প্রতিও সংসদ শোক প্রকাশ করে।

শোক প্রস্তাবে নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি
শোক প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় কয়েকটি নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ওঠে। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সাবেক জামায়াত সংসদ সদস্য মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান।

পরে বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, প্রস্তাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম বাদ পড়েছে। তিনি ডেপুটি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিষয়টি উত্থাপনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

ডা. তাহের বলেন, শোক প্রস্তাবটি একপাক্ষিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। সংসদকে নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত রাখতে হলে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন, যার মধ্যে ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সোবহান, একেএম ইউসুফ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলী।

পরে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শরীফ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ এবং ফেলানী খাতুনের নামও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান।

স্পিকার সব পক্ষের প্রস্তাব গ্রহণ করে উল্লিখিত নামগুলো শোক প্রস্তাবে যুক্ত করেন।

এক মিনিট নীরবতা ও দোয়া
শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার আগে সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পরিচালনায় মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।

খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে আলোচনা
সংসদে পৃথক আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান এবং জামায়াত সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

তারা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদান ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন সাহসী নেতা ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তিনি তার ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনও গণতন্ত্র, স্বাধীনতা বা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করেননি।

তিনি বলেন, এই দৃঢ় অবস্থানই তাকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া বাস্তবে চারবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থার অধীনে একবার, পরে সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর পর আবার, এরপর ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যে আসন থেকেই নির্বাচন করেছেন, সেখানেই জয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ তার অসাধারণ ত্যাগের কারণে তাকে ‘দেশনত্রী’ ও গণতন্ত্রের জননী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইতিবাচক ধারায় সপ্তাহ শেষ করল ডিএসই ও সিএসই সূচক

সংসদে খালেদা জিয়া, খামেনি ,মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত

০৬:৪৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রথম দিনে সর্বসম্মতভাবে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এতে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক ৩১ জন সংসদ সদস্য এবং দেশের ও বিশ্বের আরও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এই শোক প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করেন। সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা
শোক প্রস্তাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। এছাড়াও বিশ্বের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে।

তাদের মধ্যে ছিলেন ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ ফ্রান্সিস এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

সাবেক সংসদ সদস্যদের স্মরণ
শোক প্রস্তাবে বিভিন্ন দলের সাবেক সংসদ সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিলেন বিএনপির ফরহাদ আহমেদ চৌধুরী, নাদিম মোস্তফা, শহীদুজ্জামান বেল্টু, এসএ খালেক, আবদুল মোমিন তালুকদার, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অনেকে।

এছাড়াও ওয়ার্কার্স পার্টির শহিদুল্লাহ শহীদ, সংসদের সাবেক উপনেতা মতিয়া চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, আবদুল মান্নান খান, সুকুমার রঞ্জন ঘোষসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাবেক সদস্যদের নাম শোক প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দ্বিতীয় প্রধান কেএম শফিউল্লাহ বীর উত্তমের নামও এতে উল্লেখ করা হয়।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের স্মরণ
সংসদ ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনে যারা ভোটাধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন তাদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানায়।

এই সময়ে গুম ও হত্যার শিকার হওয়া বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম ইলিয়াস আলী এবং বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অন্যদের স্মরণ করা হয়।

স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ২০২৪ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা
সংসদ জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ, মির মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ, শাহরিয়ার খান আনাস, মেহেদী হাসান জুনায়েদ ও ফারহান ফাইয়াজসহ শহীদদের প্রতিও গভীর শোক প্রকাশ করে।

এছাড়া ২০২৫ সালের ২১ জুলাই উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত (মরণোত্তর) শিক্ষক মাহেরিন চৌধুরীকে স্মরণ করা হয়।

পাশাপাশি ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের এবং ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে নিহতদের প্রতিও সংসদ শোক প্রকাশ করে।

শোক প্রস্তাবে নতুন নাম অন্তর্ভুক্তি
শোক প্রস্তাব উপস্থাপনের সময় কয়েকটি নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবি ওঠে। চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সাবেক জামায়াত সংসদ সদস্য মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নাম অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান।

পরে বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, প্রস্তাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম বাদ পড়েছে। তিনি ডেপুটি বিরোধীদলীয় নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিষয়টি উত্থাপনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

ডা. তাহের বলেন, শোক প্রস্তাবটি একপাক্ষিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দুঃখজনক। সংসদকে নিরপেক্ষ ও প্রাণবন্ত রাখতে হলে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

তিনি আরও কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেন, যার মধ্যে ছিলেন মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সোবহান, একেএম ইউসুফ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাসেম আলী।

পরে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শরীফ ওসমান বিন হাদি, আবরার ফাহাদ এবং ফেলানী খাতুনের নামও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান।

স্পিকার সব পক্ষের প্রস্তাব গ্রহণ করে উল্লিখিত নামগুলো শোক প্রস্তাবে যুক্ত করেন।

এক মিনিট নীরবতা ও দোয়া
শোক প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার আগে সংসদে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের পরিচালনায় মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় মোনাজাত করা হয়।

খালেদা জিয়ার অবদান নিয়ে আলোচনা
সংসদে পৃথক আলোচনায় বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান এবং জামায়াত সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

তারা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অবদান ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া ছিলেন সাহসী নেতা ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তিনি তার ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনও গণতন্ত্র, স্বাধীনতা বা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করেননি।

তিনি বলেন, এই দৃঢ় অবস্থানই তাকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া বাস্তবে চারবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থার অধীনে একবার, পরে সংসদীয় ব্যবস্থা চালুর পর আবার, এরপর ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া যে আসন থেকেই নির্বাচন করেছেন, সেখানেই জয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ তার অসাধারণ ত্যাগের কারণে তাকে ‘দেশনত্রী’ ও গণতন্ত্রের জননী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।