ভারতের লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ভারতের জন্য বড় ধরনের প্রভাব বয়ে আনতে পারে। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের বিস্তার ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে এবং পরিস্থিতির প্রকৃত কষ্ট এখনই শুরু হয়েছে।
লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিশেষভাবে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বন্ধ হয়ে গেলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতি সরাসরি সংকটে পড়বে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
লোকসভায় বক্তব্যে রাহুল গান্ধী বলেন, কোনো দেশের শক্ত ভিত্তি গড়ে ওঠে তার জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতকে কোথা থেকে তেল বা গ্যাস কিনবে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মেনে নেওয়া ঠিক নয়।
রাহুল গান্ধীর ভাষায়, একটি দেশের নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত যে তারা কোন দেশ থেকে তেল বা গ্যাস কিনবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের মতো বড় একটি দেশ কেন অন্য কোনো দেশের অনুমতির ওপর নির্ভর করবে—বিশেষ করে রাশিয়া থেকে তেল কেনার মতো বিষয়ে।
তিনি আরও বলেন, ভারতের জ্বালানি সরবরাহকারীদের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে, সেটি ভারতকেই ঠিক করতে হবে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত অন্য কোনো দেশের প্রেসিডেন্টের অনুমতির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে সরকারের অবস্থান
এদিকে একই দিনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে কথা বলেছেন। আলোচনায় মূলত জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এই পথটি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, গত কয়েক দিনে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে তিনবার কথা হয়েছে। সর্বশেষ আলোচনায় জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা ও অঞ্চলের জ্বালানি প্রবাহ স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে এর বেশি কিছু বলা আগেভাগে হয়ে যাবে।
ইরানে ভারতীয়দের পরিস্থিতি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ভারতীয় নাগরিক ইরানে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থী, নাবিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী এবং তীর্থযাত্রী।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় অনেক ভারতীয় ইতোমধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন। তেহরানে অবস্থান করা কিছু নাগরিককে দেশের ভেতরেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভারত সরকার যারা ইরান ছাড়তে চান তাদের পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার স্থলপথ ব্যবহার করে যাওয়ার ব্যবস্থা করছে। সেখান থেকে তারা বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ভারতে ফিরতে পারছেন।
সরকার জানিয়েছে, ভিসা ও স্থল সীমান্ত পারাপারের জন্য সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে অনেক ভারতীয়কে নিরাপদে সীমান্ত পার হতে সাহায্য করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যারা স্থলপথে ইরান ত্যাগ করতে চান, তাদের অবশ্যই ভারতীয় দূতাবাসের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















