০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ রেস্তোরাঁ খাত বাঁচাতে কর কমানো ও গ্যাস সংযোগ চালুর দাবি হাওরে ভেজা ধান নিয়ে কৃষকের কান্না, মিলছে না ক্রেতা বা সরকারি সহায়তা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আসল সংকট সীমান্তে, না অবিশ্বাসে? জ্বালানি সংকটে সংযমের আহ্বান মোদির, আমদানি নির্ভরতা কমাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর বিজয়ের উত্থান, কংগ্রেসের সংকট এবং ভারতের বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ জাহানারা ইমাম: এক মায়ের শোক থেকে জাতির বিবেক হয়ে ওঠার গল্প টিকের কামড়ে বাড়ছে ঝুঁকি, যুক্তরাষ্ট্রে ছড়াচ্ছে ছয় বিপজ্জনক রোগ ১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: শ্রমিকদের হার, না কি শাসকশ্রেণির নৈতিক পরাজয়? মা: ভালোবাসার প্রথম ঠিকানা

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে সৌদি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ

ইসলামাবাদ: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে সফরে গেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সেখানে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন।

বৃহস্পতিবার তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে পরিস্থিতি শান্ত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারে।

ইরানের পাল্টা হামলা ও তেলের বাজারে প্রভাব

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কিছু স্থাপনাও রয়েছে।

ইরান একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

পাকিস্তান–সৌদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

এই আলোচনা হয় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে সৌদি আরব

এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শাইবাহ তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগের দিনও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, একই তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে চালানো একাধিক ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। শাইবাহ তেলক্ষেত্র সৌদি আরবের তেল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের সমর্থনের বার্তা

প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে এবং যেকোনো সময় পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি আরও বলেন, ইসলামাবাদ ও রিয়াদ সবসময় একে অপরের সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাস করে এবং দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্ক সেই ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানের অবস্থান

অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে তেহরান জানিয়েছে, যেসব স্থান থেকে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়, সেসব লক্ষ্যবস্তুতেই তারা আঘাত হানবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিয়ান জ্বালানি সংকটে তড়িঘড়ি তেল ভাগাভাগি চুক্তির পথে, হরমুজ ইস্যুতে বাড়ছে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে সৌদি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ

০৭:৪৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

ইসলামাবাদ: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে সফরে গেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। সেখানে তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন।

বৃহস্পতিবার তিনি সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ায় কূটনৈতিক তৎপরতা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানকে ঘিরে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে পরিস্থিতি শান্ত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারে।

ইরানের পাল্টা হামলা ও তেলের বাজারে প্রভাব

সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ছাড়াও উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কিছু স্থাপনাও রয়েছে।

ইরান একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

পাকিস্তান–সৌদি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

এই আলোচনা হয় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায়। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তান ও সৌদি আরব ‘স্ট্র্যাটেজিক মিউচুয়াল ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলাকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে সৌদি আরব

এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার শাইবাহ তেলক্ষেত্রের দিকে ধেয়ে আসা দুটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সামাজিক মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগের দিনও সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, একই তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে চালানো একাধিক ড্রোন হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। শাইবাহ তেলক্ষেত্র সৌদি আরবের তেল উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের সমর্থনের বার্তা

প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক গণমাধ্যম বিষয়ক মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে এবং যেকোনো সময় পাকিস্তান সৌদি আরবের পাশে দাঁড়াবে—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি আরও বলেন, ইসলামাবাদ ও রিয়াদ সবসময় একে অপরের সহযোগিতার নীতিতে বিশ্বাস করে এবং দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের সম্পর্ক সেই ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।

ইরানের অবস্থান

অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে তেহরান জানিয়েছে, যেসব স্থান থেকে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়, সেসব লক্ষ্যবস্তুতেই তারা আঘাত হানবে।