ভারতের জ্বালানি মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, বৈশ্বিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতিতেও দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। বৃহস্পতিবার লোকসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের জন্য পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল ও ফুয়েল অয়েলের সরবরাহ পুরোপুরি নিশ্চিত রয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রভাব নিয়ে সংসদে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এই আশ্বাস দেন।
বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক বার্তা
লোকসভায় বক্তব্যে হারদীপ সিং পুরি বলেন, বর্তমান বিশ্ব এমন এক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে যা ইতিহাসে আগে কখনো দেখা যায়নি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ভারতের সরাসরি কোনো ভূমিকা না থাকলেও এর পরিণতি সামাল দিতে দেশকে প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হলেও ভারত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধের প্রভাব
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভারতের জ্বালানি মন্ত্রী জানান, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত বিকল্প উৎস থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক উদ্যোগের ফলে ভারত এমন পরিমাণ তেল সংগ্রহ করতে পেরেছে, যা বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালী থেকে একই সময়ে যতটা পাওয়া সম্ভব ছিল তার চেয়েও বেশি।
এলপিজি সরবরাহ নিয়েও আশ্বাস
দেশজুড়ে এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের বিষয়েও বক্তব্য দেন হারদীপ সিং পুরি। তিনি জানান, ভারতের অপরিশোধিত তেল ও গৃহস্থালির এলপিজি সরবরাহ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।
সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের প্রায় ৩৩ কোটি পরিবারের রান্নাঘরে যেন কোনো ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়।
এলপিজির নতুন সরবরাহ উৎস
সরকার এলপিজি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনতে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি বাড়িয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে, কানাডা, আলজেরিয়া ও রাশিয়া থেকে এলপিজির চালান আসছে।
এর আগে ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি চাহিদা কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানি করা হতো। বাকি ৪০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত হতো।
উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ
সরকারি নির্দেশনার ফলে দেশের বিভিন্ন রিফাইনারিতে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। গত পাঁচ দিনে উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং আরও সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ চলছে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কোনো সংকট তৈরি হবে না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















