০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
ইতিবাচক ধারায় সপ্তাহ শেষ করল ডিএসই ও সিএসই সূচক মানিকগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দম্পতির মৃত্যু বাগেরহাটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: একই পরিবারের ১০ জনসহ নিহত ১২ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিয়ে সৌদি সফরে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধ ভারতের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে: সতর্ক করলেন রাহুল গান্ধী ইসরায়েলের হামলা বন্ধের আহ্বান তুরস্কের তেলবাহী জাহাজকে এখনই নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত নয় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার প্রথম বার্তা শিগগির প্রকাশ পাটুরিয়ায় নদীতে পড়া তেলবাহী ট্রাক উদ্ধার অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন

দুর্নীতি দমনে কঠোর ব্যবস্থা ও সুশাসন জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

সংসদের নতুন অধিবেশনের প্রথম দিনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদের নতুন অধিবেশনের সূচনালগ্নে এই উদ্বোধনী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি।

২০২৪ সালের গণআন্দোলনের লক্ষ্য

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই কাঠামোতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন বিভিন্ন খাতে সংস্কারের সুপারিশ তৈরির জন্য সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে।

মো. সাহাবুদ্দিনই রাষ্ট্রপতি থাকছেন নাকি পরিবর্তন করবে বিএনপি? - BBC News  বাংলা

নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সংস্কারের মূলনীতি

রাষ্ট্রপতি জানান, সরকার “আমরা কাজ করব, সবাই মিলে দেশ গড়ব, সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগান সামনে রেখে জনগণের কাছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেছে।

এই ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কারে তিনটি মূল নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন।

তবে তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলোর সফল বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে দেশে দুর্নীতি দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এই দুই ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকার দৃঢ় সংকল্প ও অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

অতীতের দুর্নীতি দমন উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে অতীতের দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালের জুনে আগের সরকার ক্ষমতা ছাড়ার সময় বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমা পেয়েছিল।

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি

পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি মোকাবিলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ২০০৪ সালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়।

রাষ্ট্রপতির মতে, এসব উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের কলঙ্কজনক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালের অক্টোবরে সরকার ক্ষমতা ছাড়ার আগেই দেশ সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠতে শুরু করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে থাকে।

দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলাই অগ্রাধিকার

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তার বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন, দেশের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পথে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইতিবাচক ধারায় সপ্তাহ শেষ করল ডিএসই ও সিএসই সূচক

দুর্নীতি দমনে কঠোর ব্যবস্থা ও সুশাসন জোরদারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

০৬:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

সংসদের নতুন অধিবেশনের প্রথম দিনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন দুর্নীতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের সংস্কার কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদের নতুন অধিবেশনের সূচনালগ্নে এই উদ্বোধনী ভাষণ দেন রাষ্ট্রপতি।

২০২৪ সালের গণআন্দোলনের লক্ষ্য

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল স্বৈরাচারের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়বিচার ও সাম্যের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। সেই কাঠামোতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন বিভিন্ন খাতে সংস্কারের সুপারিশ তৈরির জন্য সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে।

মো. সাহাবুদ্দিনই রাষ্ট্রপতি থাকছেন নাকি পরিবর্তন করবে বিএনপি? - BBC News  বাংলা

নির্বাচনী অঙ্গীকার ও সংস্কারের মূলনীতি

রাষ্ট্রপতি জানান, সরকার “আমরা কাজ করব, সবাই মিলে দেশ গড়ব, সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগান সামনে রেখে জনগণের কাছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করেছে।

এই ইশতেহারে রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কারে তিনটি মূল নীতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন।

তবে তিনি বলেন, এই উদ্যোগগুলোর সফল বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে দেশে দুর্নীতি দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ওপর।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এই দুই ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকার দৃঢ় সংকল্প ও অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

অতীতের দুর্নীতি দমন উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে অতীতের দুর্নীতি দমন প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালের জুনে আগের সরকার ক্ষমতা ছাড়ার সময় বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তকমা পেয়েছিল।

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি

পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতি মোকাবিলায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মধ্যে ২০০৪ সালে দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়ন করা হয়।

রাষ্ট্রপতির মতে, এসব উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের কলঙ্কজনক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০০৬ সালের অক্টোবরে সরকার ক্ষমতা ছাড়ার আগেই দেশ সেই নেতিবাচক ভাবমূর্তি কাটিয়ে উঠতে শুরু করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর একটি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে থাকে।

দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলাই অগ্রাধিকার

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তার বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন, দেশের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পথে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে।