ওরেগন অঙ্গরাজ্য শিগগিরই নতুন একটি সরকারি সম্পত্তি পেতে পারে—একটি মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত, যা বহু প্রজন্ম ধরে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে প্রিয়। সম্প্রতি এই জলপ্রপাতটি রেডফিন নামের রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্মে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়।
অ্যাবিকুয়া ফলস নামে পরিচিত এই জলপ্রপাতটি ৯২ ফুট বা প্রায় ২৮ মিটার উঁচু থেকে কলাম আকৃতির ব্যাসল্ট পাথরের খাড়া পাহাড় বেয়ে নেমে আসে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল। একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা বেনেডিক্টাইন সন্ন্যাসীদের একটি সম্প্রদায়কে সহায়তা করে, চলতি বছরের শুরুতে এটি বিক্রির জন্য বাজারে তোলে।
আইনপ্রণেতাদের উদ্যোগে কেনার সিদ্ধান্ত
জলপ্রপাতটি বিক্রির খবরে প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন, নতুন মালিক এটি সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ করে দিতে পারেন।
তবে চলতি মাসে আইনসভা অধিবেশনের শেষ দিকে উভয় দলের আইনপ্রণেতারা হস্তক্ষেপ করেন এবং জলপ্রপাতটি ও এর আশপাশের জমি কিনতে ২১ লাখ ডলার বরাদ্দ অনুমোদন দেন।
উইলামেট নদী সংরক্ষণ ট্রাস্টের সভাপতি ট্রাভিস উইলিয়ামস বলেন, কোনো জলপ্রপাতকে রেডফিন বা অন্য কোনো রিয়েল এস্টেট সাইটে মূল্য উল্লেখ ছাড়াই বিক্রির তালিকায় দেখা খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা। এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল যে হয়তো ভবিষ্যতে এই স্থানটি বন্ধ হয়ে যাবে।
অবস্থান ও দুর্গম পথ
জলপ্রপাতটি অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সেলেম শহর থেকে প্রায় ৩০ মাইল পূর্বে এবং পোর্টল্যান্ড থেকে প্রায় ৫০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত।
সেখানে পৌঁছাতে হলে প্রথমে একটি কাঁচা, অপরিকল্পিত সড়ক ধরে যেতে হয়, এরপর একটি ছোট কিন্তু খাড়া পাহাড়ি পথে হাঁটতে হয়। পথটি এতটাই খাড়া যে আগের দর্শনার্থীরা কিছু জায়গায় উঠানামার সুবিধার জন্য দড়ি বেঁধে রেখে গেছেন।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি
রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্য সিনেটর ফ্রেড গিরোদ, যার নির্বাচনী এলাকায় এই জলপ্রপাতটি অবস্থিত, এক বিবৃতিতে বলেন, ওরেগন অঙ্গরাজ্য প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে যে অ্যাবিকুয়া ফলস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকবে এবং মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
ইতিহাস ও মালিকানা
১৯০৮ সালে মাউন্ট অ্যাঞ্জেল অ্যাবি এই জলপ্রপাতের জমি অধিগ্রহণ করে। পরে ২০০২ সালে এটি ওরেগনের অ্যাবি ফাউন্ডেশন নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যা ওই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে সহায়তা করে।
ফাউন্ডেশনের যোগাযোগ পরিচালক আমান্ডা স্ট্যাগেনবর্গ বলেন, অনেক মানুষ এই এলাকায় হাঁটতে ও ঘুরতে আসছিলেন। আমরা তা স্বাগত জানাই, কিন্তু একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে চেয়েছি যে জায়গাটির সঠিক তত্ত্বাবধান হচ্ছে।
তিনি জানান, ফেব্রুয়ারির শুরুতে সম্পত্তিটি উন্মুক্ত নিলামে তোলা হয়। সেখানে কোনো সর্বনিম্ন বা সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করা হয়নি। পরে আইনসভায় পাস হওয়া বিলের আওতায় অঙ্গরাজ্য যে প্রস্তাব দেয়, সেটিই গ্রহণ করা হয়।
ক্রয়ের আগে যাচাই প্রক্রিয়া
ওরেগন পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন বিভাগ জানিয়েছে, চূড়ান্তভাবে ক্রয় সম্পন্ন হওয়ার আগে পরিবেশগত ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হবে।
তবে এই সম্পত্তি সরাসরি অঙ্গরাজ্যের পার্কে রূপান্তরিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কারণ সেটির জন্য অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। বিকল্প হিসেবে এটি স্থানীয় সরকার, কোনো আদিবাসী প্রশাসন বা অন্য কোনো অঙ্গরাজ্য সংস্থার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতে পারে।
বিভাগের মুখপাত্র কেটি গোতিয়ের বলেন, অ্যাবিকুয়া ফলস অত্যন্ত সুন্দর হলেও এটি খুবই দূরবর্তী এবং পৌঁছানো কঠিন। এমন একটি জায়গা পরিচালনার প্রভাব বিদ্যমান পার্ক ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াতে পারে, বিশেষ করে যখন বাজেটে ঘাটতি রয়েছে।
জনমতের প্রতিক্রিয়া
এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উইলামেট নদী সংরক্ষণ ট্রাস্টের পোস্টে অনেকেই মন্তব্য করেছেন। অধিকাংশ মানুষ জলপ্রপাতটি সরকারি সম্পত্তি হওয়ার ধারণাকে স্বাগত জানালেও কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে এতে প্রবেশ ফি চালু হতে পারে এবং দর্শনার্থীর ভিড় বেড়ে যেতে পারে।
ট্রাস্টের সভাপতি ট্রাভিস উইলিয়ামস বলেন, জলপ্রপাতটি বিক্রির তালিকায় ওঠার পরপরই তাদের সংস্থা একটি প্রস্তাব দিয়েছিল এবং এখন তারা অঙ্গরাজ্যের উদ্যোগকে সমর্থন করছে।
তার ভাষায়, এই জায়গাটির মধ্যে এক ধরনের আধ্যাত্মিক অনুভূতি আছে। এটি সত্যিই অসাধারণ সুন্দর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















