মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরাকের জলসীমায় মার্কিন মালিকানাধীন একটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরক বোঝাই চালকবিহীন নৌকার হামলার ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এই হামলায় জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং আতঙ্কে নাবিকদের পানিতে ঝাঁপ দিতে হয়। প্রাথমিক তদন্তে এটিকে পরিকল্পিত হামলা বলে মনে করা হচ্ছে।
বিস্ফোরক নৌকার আঘাতে জাহাজে আগুন
প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গেছে, ‘সেইফসি বিষ্ণু’ নামের ট্যাংকারটিতে দুটি বিস্ফোরক বোঝাই চালকবিহীন নৌকা ধাক্কা দেয়। ইরাকের খোর আল জুবাইর বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় এই আঘাতে জাহাজের এক পাশ মুহূর্তেই আগুনে জ্বলে ওঠে।
জাহাজের মালিকানা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, জীবিত নাবিকদের সঙ্গে কথা বলার পর তাদের ধারণা, হামলাটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্রাণ বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ
হামলার সময় ট্যাংকারটিতে মোট ২৮ জন নাবিক ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় লাইফবোট নামানোর সময়ও পাননি তারা। পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সবাইকে সরাসরি পানিতে ঝাঁপ দিতে হয়।
এই ঘটনায় একজন নাবিক নিহত হন। বাকি ২৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে সহায়তা পাচ্ছেন।
তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বাড়ছে ঝুঁকি
হামলার সময় ট্যাংকারটি প্রায় ৫৩ হাজার মেট্রিক টন ন্যাপথা স্থানান্তরের কাজে যুক্ত ছিল। একই সময়ে মাল্টা পতাকাবাহী আরেকটি জাহাজও কাছাকাছি অবস্থানে ছিল এবং হামলার সময় সেটিতেও একটি প্রক্ষেপণ আঘাত হানে। সেই জাহাজের ২৩ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা সংকট
পারস্য উপসাগরে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইতিমধ্যে অন্তত ১৬টি ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। এর ফলে বহু জাহাজ নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নোঙর করে অপেক্ষা করছে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই হরমুজ প্রণালির পথেই পরিবাহিত হয়। তাই এখানে যে কোনো নিরাপত্তা সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্ব নৌপরিবহনে সতর্কবার্তা
জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, এই হামলা বিশ্ব সরকার, নৌ কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ কখনোই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত অনিশ্চিত এবং হাজার হাজার নাবিক প্রতিদিন ঝুঁকির মধ্যেই কাজ করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















