ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় ঈদের ভিজিএফ চালের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। তিন ঘণ্টার উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষের পর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাকে ঘিরে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ভিজিএফ কার্ডের ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ
শৈলকুপা উপজেলার চর গোলকনগর গ্রামে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকার নির্ধারিত ভিজিএফ চালের কার্ড বিতরণ নিয়ে মির্জাপুর ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মন্ডল এবং যুবদল নেতা শামীম লস্করের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিএফ কার্ডগুলো সায়েম মন্ডলের কাছে দেওয়া হয়েছিল। পরে শামীম লস্কর ওই কার্ডের একটি অংশ দাবি করলে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রামে বৈঠকের সময় বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করলে লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

তিন ঘণ্টার সংঘর্ষে আহত ৬০ জন
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে অন্তত ৬০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সানোয়ার মোল্লা, শরিফুল ইসলাম, শহিদুল, জামিরুল, রবিুল ইসলাম, রাশেদ আলী, আবুল হাশেম, তওয়াজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, খায়রুল ইসলাম, কারিয়াউল্লাহ, আলফাজ লস্কর, তপন জোয়ারদার, হাফিজুর, দুলাল শাহ, মতিয়ার রহমান, লাল্টু শাহ এবং বদিউজ্জামানসহ আরও অনেকে রয়েছেন।
আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
যুবদল নেতা শামীম লস্করের দাবি, সায়েম মন্ডল ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ১৫০টি ভিজিএফ কার্ড নিয়েছিলেন। তিনি অতিরিক্ত কিছু কার্ড চাইলে সায়েম ক্ষুব্ধ হন। পরে বাজার থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে ফেরার সময় সায়েমের সমর্থকরা তার ওপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মন্ডল বলেন, তিনি নিজের জন্য ৭৫টি কার্ড রেখেছিলেন এবং বাকি ৭৫টি ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবি মন্ডলকে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত কার্ড না পেয়ে শামীম লস্কর সারাদিন তাকে চাপ দিতে থাকেন এবং পরে সমর্থকদের নিয়ে হামলা চালান, যার ফলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

অভিযান ও গ্রেপ্তার
শুক্রবার সকালে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে চর গোলকনগরসহ আশপাশের গ্রাম থেকে বিএনপির ১৫ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
শৈলকুপা থানার কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ব্যবস্থা
শৈলকুপা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন বাবর ফিরোজ জানিয়েছেন, দলের শৃঙ্খলা নষ্ট করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















