দূতাবাস কমপ্লেক্সে ভোরের হামলা
শনিবার ভোরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস কমপ্লেক্সে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। হামলার পরপরই দূতাবাসের ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রটি দূতাবাস কমপ্লেক্সের একটি হেলিপ্যাড এলাকায় আঘাত করে।
বাগদাদের গ্রিন জোন শহরের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে ইরাক সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়, বিদেশি দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার অফিস রয়েছে। ভোরবেলায় হামলার ঘটনাটি ঘটায় এলাকায় দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি সেবার কর্মীরা পৌঁছে যায়।
প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছেন এবং হামলার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। তদন্তকারীরা দেখছেন ক্ষেপণাস্ত্রটি শহরের ভেতর থেকে নাকি আশপাশের কোনো মিলিশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। বিভিন্ন প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী ইতিমধ্যে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়েছে।
ইরাক দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। দেশটিতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী মিলিশিয়া সক্রিয়, যাদের মধ্যে কিছু গোষ্ঠী অতীতে মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনার ওপর রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
বাগদাদের গ্রিন জোন অতীতেও বহুবার হামলার লক্ষ্য হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বা আঞ্চলিক সংঘাতের সময় এই এলাকা নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে। এসব হামলা সাধারণত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না ঘটালেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।
ইরাকি সরকার এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং তদন্তের ঘোষণা দিয়েছে। সরকার বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বিদেশি দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। তাই গ্রিন জোনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব এখন স্থানীয় পর্যায়েও পড়ছে। ফলে ইরাকে বিদেশি দূতাবাস ও সামরিক স্থাপনাগুলো এখনো সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















