সিরিয়ায় সরকার পতনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আল-কায়েদা ও আইএসের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করেছে—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মার্কিন সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তা জো কেন্ট। তার এই বক্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের পটভূমি
জো কেন্ট জানান, সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ-এর সরকারকে দুর্বল করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বৃহৎ পরিকল্পনা নেয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাটিতে থাকা সুন্নি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিদ্রোহ তৈরি করা হয়। তার দাবি, এই প্রক্রিয়াতেই আইএসের মতো গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে।
তিনি আরও বলেন, তথাকথিত ‘ফ্রি সিরিয়ান আর্মি’কে সমর্থনের আড়ালে শুরুতে সবচেয়ে কার্যকর শক্তি ছিল আল-কায়েদা এবং পরে আইএস। তার মতে, এই কৌশল শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
![]()
ইরান যুদ্ধ ও বৃহত্তর কৌশল
কেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতও যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক যুদ্ধনীতির অংশ, যা ইসরায়েলের স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরাক যুদ্ধ ও সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ একই ধারার কৌশলগত পদক্ষেপ।
পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারানো
তার ভাষায়, আইএস পরে এমনভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে যে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার হস্তক্ষেপ করে সেই আগুন নেভাতে হয়, যা তারা নিজেরাই তৈরি করেছিল। এ কারণেই সিরিয়ার কিছু অংশে দীর্ঘদিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা হয়।

ক্ষমতার পালাবদল ও নতুন বাস্তবতা
২০২৪ সালের শেষ দিকে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়। ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে এবং নতুন নেতৃত্বে আসে আহমেদ আল-শারা, যার অতীত নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন কেন্ট।
তিনি দাবি করেন, আল-শারার অতীতে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা ছিল এবং তাকে একসময় আটকও করা হয়েছিল। এরপর তিনি আইএসে যোগ দেন, পরে আলাদা হয়ে নতুন গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন।
বিতর্কের নতুন মাত্রা
জো কেন্টের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















