মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। জ্বালানির আমদানি নির্ভরতা, সীমিত মজুত এবং বৈশ্বিক দামের অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকির দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে।
জ্বালানিনির্ভরতা বাড়াচ্ছে ঝুঁকি
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় অর্ধেকই গ্যাসভিত্তিক, যার একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। অপরদিকে তেলজাত পণ্যের ক্ষেত্রে দেশ প্রায় পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের অর্থনীতিতে।

মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধিতে চাপ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতি কমার যে ধারা ছিল তা থেমে যেতে পারে। আগামী কয়েক মাসে অর্থনীতির পুনরুদ্ধারও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা
দেশে জ্বালানি তেলের মজুত এক মাসেরও কম সময়ের জন্য যথেষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে, যার ফলে সরকারকে খরচ কমাতে বা রেশনিংয়ের মতো ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

সরকারের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। খুচরা পর্যায়ে জ্বালানির দামের সীমা নির্ধারণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সংকট এই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কিছুটা বেড়েছে এবং প্রবাসী আয় প্রবাহ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে, যা তাৎক্ষণিক চাপ সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির সতর্কতা
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, যা চলতি হিসাবের ভারসাম্যকে আবার ঘাটতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে মুদ্রার মান, রাজস্ব আদায় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















