সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সরকারি জলমহাল দখল করে পুকুর খননের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বিরোধের জেরে যে কোনো সময় সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
জলমহাল দখলের অভিযোগ
অভিযোগ উঠেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ছোট সাতবিলা ও বড় সাতবিলা জলমহাল এলাকায় কৃষক দলের এক নেতা জাকির হোসেন ও তাঁর ভাই দিলোয়ার হোসেন মাটি কেটে পুকুর তৈরি করছেন। স্থানীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দাবি, ইজারা নেওয়া সরকারি জলমহালের প্রায় ৯০ শতক জায়গা দখল করে সেখানে মেশিন দিয়ে খনন কাজ চালানো হয়েছে।
এই জলমহালটি পাঁচ বছরের জন্য সমিতির কাছে ইজারা দেওয়া ছিল। কিন্তু ইজারা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই বিরোধের সূত্রপাত ঘটে বলে জানা গেছে।
পুরোনো বিরোধ, নতুন উত্তেজনা
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত জাতীয় নির্বাচনের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে কৃষক দল নেতার বিরোধ নতুন করে সামনে আসে। গত ৫ মার্চ বোয়ালিয়া খাল এলাকায় দখল ও খননকাজ শুরু হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
এ ঘটনায় সমিতির সদস্য জাফর আলী থানায় মামলা করেন। এতে জাকির হোসেনসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

প্রশাসনের আগের প্রতিবেদন
২০২৩ সালে এই জলমহাল নিয়ে বিরোধের পর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা একটি তদন্ত প্রতিবেদন দেন। সেখানে বলা হয়, জাকির হোসেন তাঁর দাবির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তিতে বাধা দেওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল।
অভিযুক্তের দাবি
তবে জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি জমিতে চাষাবাদের সুবিধার জন্য খাল খনন করেছেন, জলমহাল দখল করেননি। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের আগের প্রতিবেদন পক্ষপাতমূলক ছিল এবং পরে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়দের উদ্বেগ
কোম্পানীগঞ্জ থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের কিছু সত্যতা পাওয়ায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এই বিরোধ এখন আরও তীব্র আকার নিচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















