০২:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
রাজশাহীতে হাম ছড়িয়ে শিশুমৃত্যুর শঙ্কা, আইসিইউ সংকটে ভেঙে পড়ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা ইরানে এক দিনে সর্বোচ্চ হামলার রেকর্ড, হতাহত বেড়েই চলেছে জলমহাল দখল করে পুকুর খনন, সিলেটে বাড়ছে উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা মেমোরি চিপের দাম বাড়ায় প্লেস্টেশন ৫–এর দাম বাড়াচ্ছে সনি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘ হলে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, জ্বালানি দামে বাড়তি চাপের সতর্কতা আগামী সপ্তাহে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে গ্রিস উপকূলে মৃত্যুমিছিল, ২২ জনের প্রাণহানি—২১ বাংলাদেশিসহ ২৬ জন উদ্ধার ৭৭০ কোটির ঝড়, ‘ধুরন্ধর ২’ ছুঁতে চলেছে নতুন ইতিহাস প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকার সামনে বোমা হামলার চেষ্টা নস্যাৎ, একজন আটক যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, নতুন সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

আইএমএফের সঙ্গে সমঝোতা, পাকিস্তানে আসছে ১২০ কোটি ডলার: অর্থনীতিতে স্বস্তি, সামনে নতুন ঝুঁকি

পাকিস্তানের অর্থনীতিতে নতুন করে স্বস্তির আভাস মিলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে কর্মপর্যায়ের সমঝোতার পর। এই সমঝোতার ফলে দেশটি প্রায় ১২০ কোটি ডলার সহায়তা পেতে যাচ্ছে, যা চলমান অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমঝোতার কাঠামো ও অর্থ ছাড়
নতুন এই সমঝোতা হয়েছে সম্প্রসারিত ঋণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যালোচনা এবং স্থিতিশীলতা ও টেকসই সহায়তা কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যালোচনার ভিত্তিতে। অনুমোদন মিললে পাকিস্তান প্রথম কর্মসূচি থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার এবং দ্বিতীয় কর্মসূচি থেকে প্রায় ২১ কোটি ডলার পাবে। এর ফলে দুই কর্মসূচি মিলিয়ে মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারে।

আইএমএফ এর সঙ্গে পাকিস্তানের মূল আর্থিক সহায়তা আলোচনা নিষ্পত্তিহীন অবস্থায়

অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত
চলমান নীতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, চলতি হিসাবের ভারসাম্যও স্থিতিশীল রয়েছে এবং বৈদেশিক রিজার্ভে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এতে বাজারে আস্থাও বাড়ছে।

তবে একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। জ্বালানির দামের অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক চাপ এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

বাজেট পরিকল্পনা ও রাজস্ব লক্ষ্য
আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘিরে ইতোমধ্যে নীতিগত আলোচনা এগিয়েছে। কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে উচ্চমাত্রায়, যাতে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো যায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম আরও ঘন ঘন সমন্বয়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কঠোর নীতি ও সংস্কারের দিকনির্দেশনা
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সতর্ক আর্থিক নীতি অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। করের আওতা বাড়ানো, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ব্যয়ের ভারসাম্য উন্নত করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। কর প্রশাসনে সংস্কার, ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার এবং নজরদারি বাড়ানোর ফলে আয় বাড়ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ভবিষ্যতে স্থিতিশীল করনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পাকিস্তানকে আরও ১২০ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে আইএমএফ – Daily Nayadesh

মুদ্রানীতি ও বিনিময় হার
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রয়োজন অনুযায়ী সুদের হার সমন্বয়ের প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিময় হার নমনীয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বৈদেশিক ধাক্কা সহজে মোকাবিলা করা যায়।

জ্বালানি খাতের সংস্কার
জ্বালানি খাতে সময়মতো মূল্য সমন্বয় নিশ্চিত করে ব্যয় পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমানো, বকেয়া ঋণ হ্রাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষায় জোর
দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে নগদ সহায়তা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি
সব মিলিয়ে এই সমঝোতা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিলেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহীতে হাম ছড়িয়ে শিশুমৃত্যুর শঙ্কা, আইসিইউ সংকটে ভেঙে পড়ছে চিকিৎসা ব্যবস্থা

আইএমএফের সঙ্গে সমঝোতা, পাকিস্তানে আসছে ১২০ কোটি ডলার: অর্থনীতিতে স্বস্তি, সামনে নতুন ঝুঁকি

১২:৩২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

পাকিস্তানের অর্থনীতিতে নতুন করে স্বস্তির আভাস মিলেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে কর্মপর্যায়ের সমঝোতার পর। এই সমঝোতার ফলে দেশটি প্রায় ১২০ কোটি ডলার সহায়তা পেতে যাচ্ছে, যা চলমান অর্থনৈতিক চাপ সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সমঝোতার কাঠামো ও অর্থ ছাড়
নতুন এই সমঝোতা হয়েছে সম্প্রসারিত ঋণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যালোচনা এবং স্থিতিশীলতা ও টেকসই সহায়তা কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যালোচনার ভিত্তিতে। অনুমোদন মিললে পাকিস্তান প্রথম কর্মসূচি থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার এবং দ্বিতীয় কর্মসূচি থেকে প্রায় ২১ কোটি ডলার পাবে। এর ফলে দুই কর্মসূচি মিলিয়ে মোট সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারে।

আইএমএফ এর সঙ্গে পাকিস্তানের মূল আর্থিক সহায়তা আলোচনা নিষ্পত্তিহীন অবস্থায়

অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত
চলমান নীতির কারণে পাকিস্তানের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, চলতি হিসাবের ভারসাম্যও স্থিতিশীল রয়েছে এবং বৈদেশিক রিজার্ভে উন্নতি দেখা যাচ্ছে। এতে বাজারে আস্থাও বাড়ছে।

তবে একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। জ্বালানির দামের অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক চাপ এবং সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

বাজেট পরিকল্পনা ও রাজস্ব লক্ষ্য
আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘিরে ইতোমধ্যে নীতিগত আলোচনা এগিয়েছে। কর আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে উচ্চমাত্রায়, যাতে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো যায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের দাম আরও ঘন ঘন সমন্বয়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কঠোর নীতি ও সংস্কারের দিকনির্দেশনা
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সতর্ক আর্থিক নীতি অনুসরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। করের আওতা বাড়ানো, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ব্যয়ের ভারসাম্য উন্নত করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে।

রাজস্ব আদায়ে ইতোমধ্যে কিছু অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। কর প্রশাসনে সংস্কার, ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার এবং নজরদারি বাড়ানোর ফলে আয় বাড়ছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। ভবিষ্যতে স্থিতিশীল করনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পাকিস্তানকে আরও ১২০ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে আইএমএফ – Daily Nayadesh

মুদ্রানীতি ও বিনিময় হার
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রয়োজন অনুযায়ী সুদের হার সমন্বয়ের প্রস্তুতি রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিনিময় হার নমনীয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বৈদেশিক ধাক্কা সহজে মোকাবিলা করা যায়।

জ্বালানি খাতের সংস্কার
জ্বালানি খাতে সময়মতো মূল্য সমন্বয় নিশ্চিত করে ব্যয় পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমানো, বকেয়া ঋণ হ্রাস, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষায় জোর
দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে নগদ সহায়তা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সামগ্রিক পরিস্থিতি
সব মিলিয়ে এই সমঝোতা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দিলেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।