লিবিয়া থেকে আরও ১৭০ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। সোমবার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকায় পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার পুরো প্রক্রিয়াটি সমন্বয় করেছে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে অনেকে অপহরণ, নির্যাতন ও অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংকটের মধ্যে আটকে থাকার পর অবশেষে তারা দেশে ফেরার সুযোগ পান।
বিমানবন্দরে সহায়তা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফেরত আসা ব্যক্তিদের স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইওএমের কর্মকর্তারা। এ সময় তারা দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের নিজেদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হয়।
ফেরত আসা প্রত্যেককে আইওএমের পক্ষ থেকে যাতায়াত ভাতা, খাদ্য সহায়তা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ
দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়াকে ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা। এ সুযোগে সক্রিয় মানবপাচার চক্র বহু মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় প্রলুব্ধ করছে। বাংলাদেশ থেকেও প্রতি বছর অনেকে দালালদের মাধ্যমে বিপজ্জনক এই পথে পাড়ি জমাচ্ছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ধাপে ধাপে আরও বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের মানবপাচারকারীদের প্রতারণা থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















