০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিতর্ক পেরিয়ে নতুন উচ্চতায় র‍্যাচেল জেগলার, এবার ব্রডওয়েতে ইভা পেরন শিল্পের নতুন প্রভাবশালীদের খোঁজে টাইম, ৫০ বছর পর প্রচ্ছদে জীবিত চিত্রশিল্পী ৯/১১-এর ২৫ বছর: যে ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছে এক প্রজন্ম নিজের ঘরেও পরবাসী: ‘কারা আমাদের মানুষ’—এই প্রশ্নের রাজনীতি ট্রাম্প-শির নৈশভোজে জাঁকজমক, আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের গভীর টানাপোড়েন ব্রিকস সম্মেলনে না যাওয়ায় লাভবান তারেক রহমান, ক্ষতি বাংলাদেশের জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, পরীক্ষার সময় এড়িয়ে ইসির প্রস্তুতি ইতালির ব্যাংকিং খাতে নতুন শক্তি, আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জায়ান্ট বিএপিইআর শিল্পের পুরোনো শক্তিতে নতুন প্রযুক্তির ছোঁয়া, ইতালিতে শুরু ‘শিল্প পুনর্জাগরণ’ এআইকে মানুষ যতটা ভাবছে, বাস্তবে তার প্রভাব হতে পারে আরও বড়

মালয়েশিয়া-জাপান হাইড্রোজেন প্রকল্পে ধাক্কা, অর্থসংকটে কমছে বিনিয়োগ ও উৎপাদন পরিকল্পনা

মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে জাপানি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা বড় একটি সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্প অর্থসংকটের কারণে ছোট আকারে নামিয়ে আনা হচ্ছে। শুরুতে যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নিয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল, এখন তা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই প্রকল্পে মালয়েশিয়ার এসইডিসি এনার্জি, জাপানের সুমিতোমো কর্পোরেশন এবং জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ইনিওস একসঙ্গে কাজ করছে। সারাওয়াকের জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে “গ্রিন হাইড্রোজেন” উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল তাদের। ২০২৩ সালের ঘোষণায় জানানো হয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৯০ হাজার মেট্রিক টন হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হবে, যার বেশিরভাগই জাপানে রপ্তানি করা হবে।

তবে এখন সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এসইডিসি এনার্জির চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ হুসাইন। তার ভাষায়, সারাওয়াক থেকে পুরো হাইড্রোজেন জাপানে পাঠানোর ধারণাটি এখন আর অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নয়।

পরিবহন ব্যয়েই বড় সংকট

প্রকল্পটির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবহন খরচ। সারাওয়াকের জলবিদ্যুতের কারণে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও হাইড্রোজেনকে চাপযুক্ত করা, ঠান্ডা রাখা এবং জাপানে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

আবদুল আজিজ জানান, সারাওয়াকে প্রতি কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে খরচ ২০ রিঙ্গিতেরও কম হতে পারে। কিন্তু জাপানে পৌঁছানোর পর সেই খরচ বেড়ে প্রায় ৫০ রিঙ্গিতে দাঁড়ায়। ফলে সরকারি সহায়তা ছাড়া প্রকল্পটি আর লাভজনক থাকছে না।

জানা গেছে, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে যে ভর্তুকি পাওয়ার আশা ছিল, তা না পাওয়াও এই সংকটের অন্যতম কারণ। সেই সহায়তা না মেলায় প্রকল্পের মূল কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।

প্রকল্প বাতিল নয়, বদলাচ্ছে কৌশল

যদিও প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। আবদুল আজিজ বলেন, এখন হাইড্রোজেন পরিবহনের বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে। সরাসরি হাইড্রোজেন পাঠানোর বদলে অ্যামোনিয়া বা মিথানলের আকারে রপ্তানির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সারাওয়াক সরকারও জানিয়েছে, প্রকল্পটি বন্ধ নয় বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সারাওয়াকের প্রধান আবাং জোহারি ওপেং বলেন, এখন প্রকল্পটিকে আরও বাজারমুখী করে সাজানো হচ্ছে। আগে এটি মূলত জাপানি সরকারি ভর্তুকির শর্তের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

তার মতে, বিশ্বজুড়ে সবুজ জ্বালানির চাহিদা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে উন্মুক্ত বাজারেও হাইড্রোজেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে হাইড্রোজেন প্রকল্পে চাপ

শুধু মালয়েশিয়াই নয়, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াতেও একের পর এক হাইড্রোজেন প্রকল্প অর্থায়নের অভাব ও সরকারি অনুমোদন জটিলতায় স্থগিত বা বাতিল হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত হাইড্রোজেন শিল্প পর্যাপ্ত উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ অনেক বেশি থেকে যাচ্ছে এবং বাজারে চাহিদাও সীমিত থাকছে।

এদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির পক্ষে নতুন করে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও সবুজ জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের পূর্বাভাস আগের তুলনায় কমে গেছে। প্রকল্প বাতিলের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সংস্থাটি প্রথমবারের মতো তাদের পূর্বাভাস নিচের দিকে সংশোধন করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্ক পেরিয়ে নতুন উচ্চতায় র‍্যাচেল জেগলার, এবার ব্রডওয়েতে ইভা পেরন

মালয়েশিয়া-জাপান হাইড্রোজেন প্রকল্পে ধাক্কা, অর্থসংকটে কমছে বিনিয়োগ ও উৎপাদন পরিকল্পনা

০৮:০৫:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

মালয়েশিয়ার সারাওয়াকে জাপানি ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা বড় একটি সবুজ হাইড্রোজেন প্রকল্প অর্থসংকটের কারণে ছোট আকারে নামিয়ে আনা হচ্ছে। শুরুতে যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নিয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল, এখন তা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এই প্রকল্পে মালয়েশিয়ার এসইডিসি এনার্জি, জাপানের সুমিতোমো কর্পোরেশন এবং জ্বালানি প্রতিষ্ঠান ইনিওস একসঙ্গে কাজ করছে। সারাওয়াকের জলবিদ্যুৎ ব্যবহার করে “গ্রিন হাইড্রোজেন” উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল তাদের। ২০২৩ সালের ঘোষণায় জানানো হয়েছিল, ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ৯০ হাজার মেট্রিক টন হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হবে, যার বেশিরভাগই জাপানে রপ্তানি করা হবে।

তবে এখন সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এসইডিসি এনার্জির চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ হুসাইন। তার ভাষায়, সারাওয়াক থেকে পুরো হাইড্রোজেন জাপানে পাঠানোর ধারণাটি এখন আর অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর নয়।

পরিবহন ব্যয়েই বড় সংকট

প্রকল্পটির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবহন খরচ। সারাওয়াকের জলবিদ্যুতের কারণে উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলক কম হলেও হাইড্রোজেনকে চাপযুক্ত করা, ঠান্ডা রাখা এবং জাপানে পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

আবদুল আজিজ জানান, সারাওয়াকে প্রতি কেজি হাইড্রোজেন উৎপাদনে খরচ ২০ রিঙ্গিতেরও কম হতে পারে। কিন্তু জাপানে পৌঁছানোর পর সেই খরচ বেড়ে প্রায় ৫০ রিঙ্গিতে দাঁড়ায়। ফলে সরকারি সহায়তা ছাড়া প্রকল্পটি আর লাভজনক থাকছে না।

জানা গেছে, জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে যে ভর্তুকি পাওয়ার আশা ছিল, তা না পাওয়াও এই সংকটের অন্যতম কারণ। সেই সহায়তা না মেলায় প্রকল্পের মূল কাঠামো পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে।

প্রকল্প বাতিল নয়, বদলাচ্ছে কৌশল

যদিও প্রকল্পটি পুরোপুরি বাতিল হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। আবদুল আজিজ বলেন, এখন হাইড্রোজেন পরিবহনের বিকল্প উপায় খোঁজা হচ্ছে। সরাসরি হাইড্রোজেন পাঠানোর বদলে অ্যামোনিয়া বা মিথানলের আকারে রপ্তানির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সারাওয়াক সরকারও জানিয়েছে, প্রকল্পটি বন্ধ নয় বরং নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সারাওয়াকের প্রধান আবাং জোহারি ওপেং বলেন, এখন প্রকল্পটিকে আরও বাজারমুখী করে সাজানো হচ্ছে। আগে এটি মূলত জাপানি সরকারি ভর্তুকির শর্তের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

তার মতে, বিশ্বজুড়ে সবুজ জ্বালানির চাহিদা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে উন্মুক্ত বাজারেও হাইড্রোজেনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে হাইড্রোজেন প্রকল্পে চাপ

শুধু মালয়েশিয়াই নয়, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াতেও একের পর এক হাইড্রোজেন প্রকল্প অর্থায়নের অভাব ও সরকারি অনুমোদন জটিলতায় স্থগিত বা বাতিল হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত হাইড্রোজেন শিল্প পর্যাপ্ত উৎপাদন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার খরচ অনেক বেশি থেকে যাচ্ছে এবং বাজারে চাহিদাও সীমিত থাকছে।

এদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির পক্ষে নতুন করে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও সবুজ জ্বালানি খাতের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও সম্প্রতি জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে সবুজ হাইড্রোজেন উৎপাদনের পূর্বাভাস আগের তুলনায় কমে গেছে। প্রকল্প বাতিলের সংখ্যা বাড়তে থাকায় সংস্থাটি প্রথমবারের মতো তাদের পূর্বাভাস নিচের দিকে সংশোধন করেছে।