ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে বিশ্বের বৃহত্তম গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার ওপর। জাপানি এই অটোমোবাইল জায়ান্ট নভেম্বর পর্যন্ত বিদেশে প্রায় ৮৩ হাজার গাড়ির উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে মে থেকে নভেম্বরের মধ্যে ৩৮ হাজার গাড়ির উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে কার্যত পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতি দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে জ্বালানির দামও। এই পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বাজারকে কেন্দ্র করে উৎপাদিত পেট্রোলচালিত বিভিন্ন মডেলের গাড়ির উৎপাদন কমানোর পথে হাঁটছে টয়োটা।
কোন কোন মডেলের উৎপাদন কমবে
উৎপাদন কমানোর তালিকায় রয়েছে চীনে তৈরি আরএভি৪ সিরিজের পেট্রোলচালিত এসইউভি এবং উদীয়মান বাজারের জন্য তৈরি টয়োটার আইএমভি সিরিজ। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বড় সরবরাহকারীদের জানিয়ে দিয়েছে যে তারা নতুন উৎপাদন পরিকল্পনা কার্যকর করতে যাচ্ছে।
এর আগেও মার্চ ও এপ্রিল মাসে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নির্ধারিত ৪০ হাজার গাড়ির উৎপাদন জাপানে কমিয়েছিল টয়োটা। এবার পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় আরও বড় পরিসরে কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাপানেও কমছে উৎপাদন
শুধু বিদেশেই নয়, জাপানেও উৎপাদন কমাবে টয়োটা। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশীয় উৎপাদন পরিকল্পনা থেকে আরও ১ হাজার ৫০০ গাড়ি কমানো হবে। কম চাহিদার কারণে প্রোবক্স বাণিজ্যিক গাড়ি ও করোলা ট্যুরিং স্টেশন ওয়াগনের উৎপাদন হ্রাস করা হবে।
তবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রিয়াস হাইব্রিডসহ বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। অর্থাৎ বাজারের পরিবর্তিত বাস্তবতায় টয়োটা ধীরে ধীরে জ্বালানিচালিত গাড়ির বদলে বিদ্যুৎনির্ভর মডেলের দিকে জোর বাড়াচ্ছে।
কারখানায় সাময়িক উৎপাদন বন্ধ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির কারণে মে মাসে জাপানের আইচি প্রিফেকচারের সুতসুমি কারখানার দ্বিতীয় লাইনে দুই দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করা হয়। এই কারখানায় ক্যামরি সেডান তৈরি হয়। এছাড়া গিফু অটো বডির একটি লাইনে একদিন উৎপাদন স্থগিত রাখা হবে, যেখানে কোস্টার মিনিবাসসহ বিভিন্ন মডেল তৈরি হয়।
তবে জুন মাসে জাপানের কোনো কারখানা পুরোপুরি বন্ধ করার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
মধ্যপ্রাচ্য বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
টয়োটার হিসাব বিভাগের প্রধান তাকানোরি আজুমা চলতি মাসের শুরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগে চলতি অর্থবছরে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রবণতা ছিল। তিনি জানান, টয়োটা সাধারণত বছরে ৫ লাখ থেকে ৬ লাখ গাড়ি ওই অঞ্চলে রপ্তানি করে থাকে এবং এর প্রায় অর্ধেক এখন প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
চলতি অর্থবছরের জন্য টয়োটা ও লেক্সাস ব্র্যান্ড মিলিয়ে ১ কোটি গাড়ি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যা আগের বছরের তুলনায় ১ শতাংশ বেশি। তবে আন্তর্জাতিক হিসাব মানদণ্ড অনুযায়ী কোম্পানিটির নিট মুনাফা ২২ শতাংশ কমে ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনে নামতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও অপরিশোধিত তেলের বাজার আরও খারাপ হলে টয়োটাকে ভবিষ্যতে তাদের আয় ও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আবারও কমাতে হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















