০৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা সরকারের অনুমোদন: মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি, ডালও কিনছে সরকার ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা, আস্থার সংকটের আশঙ্কা রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৩৯, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়ার আহ্বান, আজ আসছে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনঃ ভারতের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে কমতে শুরু করবে  নতুন বিশ্বব্যবস্থায় চীনের অবস্থান: কূটনীতি, শক্তির ভারসাম্য ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্ন নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান যখন ক্ষমতার যুদ্ধে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নজরদারিতে ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল অনুমোদন, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষা

নারীদের বাড়ছে যুদ্ধক্ষেত্রের মৃত্যু, ইরান সংঘাতে নতুন বাস্তবতা দেখছে মার্কিন সেনাবাহিনী

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন সেনাবাহিনীতে নারী সদস্যদের হতাহত হওয়ার হার নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক নারী সেনা সদস্য সরাসরি প্রাণ হারাচ্ছেন বা আহত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে যাওয়া এবং নারীদের সামরিক দায়িত্বে বড় ভূমিকা নেওয়ার ফলেই এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শুরু থেকেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অভিযানগুলোতে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে ইরানের ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সামনের সারি ও পেছনের ঘাঁটির পার্থক্য অনেকটাই মুছে গেছে। ফলে নারী সেনারাও এখন আগের চেয়ে বেশি সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

যুদ্ধে নিহত নারী সেনাদের গল্প

সম্প্রতি নিহত হওয়া মার্কিন বিমানবাহিনীর টেকনিক্যাল সার্জেন্ট অ্যাশলি প্রুইটের মৃত্যু দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে। মার্চ মাসে ইরাকের আকাশে দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমানের সংঘর্ষে তিনি মারা যান। পরিবার জানায়, নিজের দায়িত্ব নিয়ে তিনি সবসময় গর্ববোধ করতেন এবং কঠিন কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিতেন।

অন্যদিকে সেনাবাহিনীর লজিস্টিক কর্মকর্তা নিকোল আমরও ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত হন। কুয়েতে অবস্থানরত ঘাঁটিতে হামলার সময় আরও কয়েকজন সেনার সঙ্গে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা বলেন, সামরিক জীবনের বাইরে তিনি ছিলেন অসাধারণ মা ও পরিবারের শক্তি।

নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে

পেন্টাগনের তথ্যমতে, ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত আহত মার্কিন সেনাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী। অতীতের ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের তুলনায় এই হার অনেক বেশি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে নারী সেনাদের জন্য সব ধরনের যুদ্ধসংক্রান্ত পদ উন্মুক্ত করে দেওয়ার ফলে তারা এখন সরাসরি যুদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে অংশ নিচ্ছেন।

নারী সেনা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর ভাষ্য, সামরিক পোশাক পরা প্রত্যেক সদস্যই জানেন যে যেকোনো সময় যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে হতে পারে। নারী সদস্যরাও সেই দায়িত্ব ও ঝুঁকি সমানভাবে গ্রহণ করছেন।

পরিবারগুলোর কঠিন সময়

নিহত সেনাদের পরিবার এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। কেউ সন্তানদের নিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি, কেউ আবার মা হারানোর শোক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সামরিক পরিবারগুলোর মতে, যুদ্ধের মূল্য শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, ঘরের ভেতরেও দীর্ঘ ছায়া ফেলে যায়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন রাজনীতিতে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে, সেনাবাহিনীর সব ধরনের পদ নারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে কি না। তবে নিহত নারী সেনাদের পরিবার বলছে, তারা নিজেদের দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা

নারীদের বাড়ছে যুদ্ধক্ষেত্রের মৃত্যু, ইরান সংঘাতে নতুন বাস্তবতা দেখছে মার্কিন সেনাবাহিনী

০৭:৫৯:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে মার্কিন সেনাবাহিনীতে নারী সদস্যদের হতাহত হওয়ার হার নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংখ্যক নারী সেনা সদস্য সরাসরি প্রাণ হারাচ্ছেন বা আহত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে যাওয়া এবং নারীদের সামরিক দায়িত্বে বড় ভূমিকা নেওয়ার ফলেই এই পরিবর্তন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের শুরু থেকেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অভিযানগুলোতে হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে ইরানের ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সামনের সারি ও পেছনের ঘাঁটির পার্থক্য অনেকটাই মুছে গেছে। ফলে নারী সেনারাও এখন আগের চেয়ে বেশি সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

যুদ্ধে নিহত নারী সেনাদের গল্প

সম্প্রতি নিহত হওয়া মার্কিন বিমানবাহিনীর টেকনিক্যাল সার্জেন্ট অ্যাশলি প্রুইটের মৃত্যু দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে। মার্চ মাসে ইরাকের আকাশে দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী সামরিক বিমানের সংঘর্ষে তিনি মারা যান। পরিবার জানায়, নিজের দায়িত্ব নিয়ে তিনি সবসময় গর্ববোধ করতেন এবং কঠিন কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিতেন।

অন্যদিকে সেনাবাহিনীর লজিস্টিক কর্মকর্তা নিকোল আমরও ইরানের ড্রোন হামলায় নিহত হন। কুয়েতে অবস্থানরত ঘাঁটিতে হামলার সময় আরও কয়েকজন সেনার সঙ্গে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা বলেন, সামরিক জীবনের বাইরে তিনি ছিলেন অসাধারণ মা ও পরিবারের শক্তি।

নারীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে

পেন্টাগনের তথ্যমতে, ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত আহত মার্কিন সেনাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নারী। অতীতের ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের তুলনায় এই হার অনেক বেশি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে নারী সেনাদের জন্য সব ধরনের যুদ্ধসংক্রান্ত পদ উন্মুক্ত করে দেওয়ার ফলে তারা এখন সরাসরি যুদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে অংশ নিচ্ছেন।

নারী সেনা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর ভাষ্য, সামরিক পোশাক পরা প্রত্যেক সদস্যই জানেন যে যেকোনো সময় যুদ্ধক্ষেত্রে যেতে হতে পারে। নারী সদস্যরাও সেই দায়িত্ব ও ঝুঁকি সমানভাবে গ্রহণ করছেন।

পরিবারগুলোর কঠিন সময়

নিহত সেনাদের পরিবার এখন সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে। কেউ সন্তানদের নিয়ে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি, কেউ আবার মা হারানোর শোক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সামরিক পরিবারগুলোর মতে, যুদ্ধের মূল্য শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, ঘরের ভেতরেও দীর্ঘ ছায়া ফেলে যায়।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন রাজনীতিতে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে, সেনাবাহিনীর সব ধরনের পদ নারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে কি না। তবে নিহত নারী সেনাদের পরিবার বলছে, তারা নিজেদের দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে প্রমাণ করেছেন যে তারা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম।