ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। রাতভর চলা এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন, ধ্বংসস্তূপ এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণ
শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত কিয়েভজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়া প্রায় ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০০ ড্রোন ব্যবহার করেছে। হামলায় ব্যবসাকেন্দ্র, বাজার, আবাসিক ভবন এবং কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে যায় এবং বহু মানুষ আশ্রয় নিতে বাধ্য হন মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ নিরাপদ স্থানে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল কিয়েভ। তিনি জানান, পানিসংক্রান্ত অবকাঠামো, বাজার ও বহু আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার দাবি ও পাল্টা অভিযোগ
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, হামলায় শুধুমাত্র ইউক্রেনের সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে মস্কো। তবে ইউক্রেনের পক্ষ বলছে, হামলায় সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়া এই হামলায় ‘ওরেশনিক’ নামের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে বলে নিশ্চিত করেছে। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র, যা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম বলেও জানা গেছে।
শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা
এই হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলছে। রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই কিয়েভে এই বড় আক্রমণ চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, রাশিয়া যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতি না পেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করতে শহরগুলোকে লক্ষ্য করছে।
কিয়েভজুড়ে আতঙ্ক
হামলার পর কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় জরুরি উদ্ধারকাজ চালানো হয়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর এত বড় আকাশ হামলা খুব কমই দেখেছেন তারা।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















