ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের তিন নেতাকে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রদল।
সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল জানায়, অভিযুক্ত তিন নেতা হলেন জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন দাস, ঝলক দাস ও রিপন চন্দ্র সরকার।
অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যায় জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের নিচে একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অভয় কুমার সিংহ বেঞ্চের ওপর পা তুলে বসেছিলেন। হাঁটুর সমস্যার কারণে তিনি ওইভাবে বসেছিলেন বলে জানা যায়।
এ নিয়ে সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। পরে তিনি নিজের কক্ষে ফিরে গেলে অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
ফেসবুকে বিচার দাবি
ঘটনার পর ভুক্তভোগী অভয় কুমার সিংহ নিজের ফেসবুক পোস্টে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন এবং বিচার দাবি করেন। তার পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনা শুরু হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত
জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট দেবাশীষ পাল জানিয়েছেন, ঘটনার রাতেই তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন। পরে ঘটনাটি তদন্তে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাউস টিউটর অধ্যাপক ড. শিমুল হালদারের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















