যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ ৭০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিল অনুমোদন করেছে, যার মাধ্যমে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা এবং সীমান্ত টহল বাহিনীর কার্যক্রমে অর্থায়ন করা হবে। এখন বিলটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে।
প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি ২১৪-২১২ ভোটে পাস হয়। ভোটাভুটি মূলত দলীয় অবস্থানের ভিত্তিতেই হয়েছে। একজন স্বতন্ত্র সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলিয়ে বিলটির বিরোধিতা করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান
অভিবাসন নীতি এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কার নিয়ে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। চলতি বছরের শুরুতে এই বিরোধের জেরে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের আংশিক কার্যক্রম ৭৬ দিন ধরে বাধাগ্রস্ত হয়।

পরবর্তীতে এপ্রিল মাসে একটি দ্বিদলীয় অর্থায়ন বিল স্বাক্ষরের মাধ্যমে পরিস্থিতির কিছুটা সমাধান হয়। তবে প্রেসিডেন্টের অভিবাসন অভিযান সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য আলাদা অর্থায়নের প্রশ্নে বিরোধ থেকেই যায়।
সিনেটে দ্রুত প্রক্রিয়ায় অনুমোদন
প্রতিনিধি পরিষদে ভোটের আগে সিনেটও বিলটি অনুমোদন করে। রিপাবলিকানরা বিশেষ দ্রুতগতির আইন প্রণয়ন পদ্ধতি ব্যবহার করে বিরোধী দলের আপত্তি এড়িয়ে বিলটি পাস করায়।
এর ফলে ডেমোক্র্যাটদের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিলটি কংগ্রেসের উভয় কক্ষ থেকে অনুমোদন পায়।
বিতর্ক ও বিরোধিতা
বিলটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও কম ছিল না। বছরের শুরুতে অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ডেমোক্র্যাটরা নতুন অর্থায়নের বিরোধিতা করেন। তারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ওপর আরও জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন।
তবে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংস্কার প্যাকেজ নিয়ে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় তাদের অবস্থান শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি।
অন্যদিকে বিলের বিভিন্ন ধারা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পছন্দের কিছু অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও বিশেষ তহবিল সংক্রান্ত প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিল থেকে বাদ দেওয়া হয় বা পরিবর্তন করা হয়।
অভিবাসন নীতিতে নতুন অধ্যায়
বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়ে অভিবাসন নজরদারি, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকারী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থায়ন নিশ্চিত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















