০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা সরকারের অনুমোদন: মরক্কো থেকে ৬০ হাজার টন টিএসপি সার আমদানি, ডালও কিনছে সরকার ইসলামী ব্যাংকের অস্থিরতায় উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা, আস্থার সংকটের আশঙ্কা রাজশাহীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নিহত ২ হামে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৩৯, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ শিশুর মৃত্যু অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে জোর দেওয়ার আহ্বান, আজ আসছে ৯.৩৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনঃ ভারতের জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে কমতে শুরু করবে  নতুন বিশ্বব্যবস্থায় চীনের অবস্থান: কূটনীতি, শক্তির ভারসাম্য ও বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রশ্ন নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান যখন ক্ষমতার যুদ্ধে বন্দি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নজরদারিতে ৭০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল অনুমোদন, ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষা

নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান যখন ক্ষমতার যুদ্ধে বন্দি

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদ শুধু আইন প্রণয়নের স্থান নয়; এটি রাজনৈতিক মতভেদকে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের মধ্যে ধরে রাখার একটি কাঠামো। তাই যখন কোনো সংসদীয় প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়ম, ঐতিহ্য এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার মৌলিক নীতিকে ঘিরে অচলাবস্থায় পড়ে, তখন সংকটটি কেবল রাজনৈতিক থাকে না; তা রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে পরিণত হয়।

ফিলিপাইনের সিনেটে বর্তমানে যে সংঘাত চলছে, সেটিকে সাধারণ ক্ষমতার লড়াই বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। কারণ এখানে বিরোধ শুধু নেতৃত্বের পদ নিয়ে নয়; বরং কোন পক্ষ বৈধভাবে সিনেট পরিচালনা করবে, কোন পক্ষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং কোন পক্ষ প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে— সেই প্রশ্ন নিয়েই সংঘর্ষ।

সংখ্যার রাজনীতি বনাম ক্ষমতার দাবি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি বিষয় সাধারণত স্পষ্ট থাকে: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতৃত্ব নির্ধারণ করে। কিন্তু ফিলিপাইনের বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, সংখ্যার হিসাব কখনও কখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কাছে গৌণ হয়ে যেতে পারে।

When growth outpaces accountability, volatility follows in the Philippines  - Atlantic Council

সিনেটের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে একটির সদস্যসংখ্যা কমে যাওয়ার পরও তারা নেতৃত্বের দাবিতে অনড় রয়েছে। অন্যদিকে বেশি সদস্যসংখ্যার গোষ্ঠী নিজেদের বৈধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। এই দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রমও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এখানে মূল সমস্যা কেবল কে সিনেটের নেতৃত্বে থাকবে তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বৈধতা কি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে, নাকি রাজনৈতিক কৌশলের ওপর?

একটি বিচারকে ঘিরে রাজনৈতিক হিসাব

বর্তমান সংকটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এর পেছনে রয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট— ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে আসন্ন বিচার প্রক্রিয়া।

প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের পর সিনেটের সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব এসেছে। সেই বিচার প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সিনেটের নেতৃত্ব নিয়ে আকস্মিক সংঘাতকে অনেক পর্যবেক্ষক শুধুমাত্র সাংগঠনিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, এটি বিচার প্রক্রিয়ার গতিপথ প্রভাবিত করার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।

যদি কোনো সংসদীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে এমনভাবে পুনর্গঠন করার চেষ্টা হয় যাতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা যায়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।

Philippine Vice-President Sara Duterte impeached again, but Senate trial  now in doubt – Asia News Network

প্রতিষ্ঠান নাকি ব্যক্তি?

একটি সুস্থ গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির চেয়ে বড়। কিন্তু যখন রাজনৈতিক আনুগত্য প্রতিষ্ঠানগত দায়িত্বকে ছাপিয়ে যায়, তখন সংকটের জন্ম হয়।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থ। সংসদীয় নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ, অনুপস্থিত সদস্যদের জন্য নতুন ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা কিংবা বিতর্কিত তদন্ত কার্যক্রম— সবকিছুই এই প্রশ্ন তুলছে যে সিদ্ধান্তগুলো জনস্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক মিত্রদের সুবিধার জন্য।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন সিনেটের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আইন প্রণয়ন ও নীতিগত আলোচনা।

বিশ্বাসের সংকট

যেকোনো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো জনবিশ্বাস। সেই বিশ্বাস একদিনে তৈরি হয় না; আবার একদিনেই ভেঙেও পড়তে পারে।

যখন নাগরিকরা দেখতে পান যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থান রক্ষায় ব্যস্ত, অথচ জাতীয় সমস্যাগুলো পিছিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা কমতে শুরু করে। সংসদীয় বিতর্কের জায়গায় যদি কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতা রক্ষার লড়াই প্রাধান্য পায়, তাহলে জনগণের চোখে পুরো ব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Philippine midterms: voter anger over cuts, Duterte's arrest threaten  Marcos' Senate slate | South China Morning Post

ফিলিপাইনের সিনেট দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই ঐতিহ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

গণতন্ত্রের প্রকৃত পরীক্ষা

গণতন্ত্রের শক্তি সংকটহীন সময়ে নয়, বরং সংকটের সময়ে প্রমাণিত হয়। যখন রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়, তখন নেতাদের সামনে একটি মৌলিক সিদ্ধান্ত এসে দাঁড়ায়— তারা কি প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করবেন, নাকি নিজেদের অবস্থানকে?

ফিলিপাইনের বর্তমান অচলাবস্থা সেই প্রশ্নই সামনে নিয়ে এসেছে। যদি রাজনৈতিক শক্তিগুলো সমঝোতা, নিয়ম এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু একটি নেতৃত্বের পদ নয়; ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো প্রতিষ্ঠান।

আর কোনো গণতন্ত্রের জন্য তার প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বল হয়ে পড়া কখনও শুভ লক্ষণ নয়। ক্ষমতার লড়াইয়ে সাময়িক বিজয় অর্জন করা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু সেই পথে যদি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত সবাই পরাজিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মানসিক সক্ষমতা ধরে রাখতে ব্যায়াম হতে পারে কার্যকর: নতুন গবেষণা

নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান যখন ক্ষমতার যুদ্ধে বন্দি

০৩:৩২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংসদ শুধু আইন প্রণয়নের স্থান নয়; এটি রাজনৈতিক মতভেদকে প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের মধ্যে ধরে রাখার একটি কাঠামো। তাই যখন কোনো সংসদীয় প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়ম, ঐতিহ্য এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার মৌলিক নীতিকে ঘিরে অচলাবস্থায় পড়ে, তখন সংকটটি কেবল রাজনৈতিক থাকে না; তা রাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নে পরিণত হয়।

ফিলিপাইনের সিনেটে বর্তমানে যে সংঘাত চলছে, সেটিকে সাধারণ ক্ষমতার লড়াই বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন। কারণ এখানে বিরোধ শুধু নেতৃত্বের পদ নিয়ে নয়; বরং কোন পক্ষ বৈধভাবে সিনেট পরিচালনা করবে, কোন পক্ষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং কোন পক্ষ প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে— সেই প্রশ্ন নিয়েই সংঘর্ষ।

সংখ্যার রাজনীতি বনাম ক্ষমতার দাবি

সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি বিষয় সাধারণত স্পষ্ট থাকে: সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেতৃত্ব নির্ধারণ করে। কিন্তু ফিলিপাইনের বর্তমান পরিস্থিতি দেখাচ্ছে, সংখ্যার হিসাব কখনও কখনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের কাছে গৌণ হয়ে যেতে পারে।

When growth outpaces accountability, volatility follows in the Philippines  - Atlantic Council

সিনেটের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে একটির সদস্যসংখ্যা কমে যাওয়ার পরও তারা নেতৃত্বের দাবিতে অনড় রয়েছে। অন্যদিকে বেশি সদস্যসংখ্যার গোষ্ঠী নিজেদের বৈধ সংখ্যাগরিষ্ঠ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। এই দ্বন্দ্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ প্রশাসনিক কার্যক্রমও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এখানে মূল সমস্যা কেবল কে সিনেটের নেতৃত্বে থাকবে তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বৈধতা কি সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে, নাকি রাজনৈতিক কৌশলের ওপর?

একটি বিচারকে ঘিরে রাজনৈতিক হিসাব

বর্তমান সংকটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ এর পেছনে রয়েছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট— ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে আসন্ন বিচার প্রক্রিয়া।

প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসনের পর সিনেটের সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব এসেছে। সেই বিচার প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সিনেটের নেতৃত্ব নিয়ে আকস্মিক সংঘাতকে অনেক পর্যবেক্ষক শুধুমাত্র সাংগঠনিক বিরোধ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, এটি বিচার প্রক্রিয়ার গতিপথ প্রভাবিত করার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ।

যদি কোনো সংসদীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোকে এমনভাবে পুনর্গঠন করার চেষ্টা হয় যাতে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা যায়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।

Philippine Vice-President Sara Duterte impeached again, but Senate trial  now in doubt – Asia News Network

প্রতিষ্ঠান নাকি ব্যক্তি?

একটি সুস্থ গণতন্ত্রে প্রতিষ্ঠান ব্যক্তির চেয়ে বড়। কিন্তু যখন রাজনৈতিক আনুগত্য প্রতিষ্ঠানগত দায়িত্বকে ছাপিয়ে যায়, তখন সংকটের জন্ম হয়।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেখা যাচ্ছে, কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর স্বার্থ। সংসদীয় নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ, অনুপস্থিত সদস্যদের জন্য নতুন ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা কিংবা বিতর্কিত তদন্ত কার্যক্রম— সবকিছুই এই প্রশ্ন তুলছে যে সিদ্ধান্তগুলো জনস্বার্থে নেওয়া হচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক মিত্রদের সুবিধার জন্য।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব পদক্ষেপ এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন সিনেটের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আইন প্রণয়ন ও নীতিগত আলোচনা।

বিশ্বাসের সংকট

যেকোনো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো জনবিশ্বাস। সেই বিশ্বাস একদিনে তৈরি হয় না; আবার একদিনেই ভেঙেও পড়তে পারে।

যখন নাগরিকরা দেখতে পান যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিজেদের অবস্থান রক্ষায় ব্যস্ত, অথচ জাতীয় সমস্যাগুলো পিছিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আস্থা কমতে শুরু করে। সংসদীয় বিতর্কের জায়গায় যদি কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতা রক্ষার লড়াই প্রাধান্য পায়, তাহলে জনগণের চোখে পুরো ব্যবস্থার মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

Philippine midterms: voter anger over cuts, Duterte's arrest threaten  Marcos' Senate slate | South China Morning Post

ফিলিপাইনের সিনেট দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই ঐতিহ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

গণতন্ত্রের প্রকৃত পরীক্ষা

গণতন্ত্রের শক্তি সংকটহীন সময়ে নয়, বরং সংকটের সময়ে প্রমাণিত হয়। যখন রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়, তখন নেতাদের সামনে একটি মৌলিক সিদ্ধান্ত এসে দাঁড়ায়— তারা কি প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করবেন, নাকি নিজেদের অবস্থানকে?

ফিলিপাইনের বর্তমান অচলাবস্থা সেই প্রশ্নই সামনে নিয়ে এসেছে। যদি রাজনৈতিক শক্তিগুলো সমঝোতা, নিয়ম এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শুধু একটি নেতৃত্বের পদ নয়; ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো প্রতিষ্ঠান।

আর কোনো গণতন্ত্রের জন্য তার প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বল হয়ে পড়া কখনও শুভ লক্ষণ নয়। ক্ষমতার লড়াইয়ে সাময়িক বিজয় অর্জন করা সম্ভব হতে পারে, কিন্তু সেই পথে যদি প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিই নড়বড়ে হয়ে যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত সবাই পরাজিত হয়।