ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় পুলিশ জেলার (এসপিডি) সাম্প্রতিক অভিযান নগর এলাকায় মাদকবিরোধী লড়াইয়ের একটি পরিচিত চিত্র আবার সামনে এনেছে। ১৩ আগস্ট মাকাতি, মুন্তিনলুপা, পাসাই ও পাতেরোসে পৃথক ‘বাই-বাস্ট’ অভিযানে ছয়জন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এসব অভিযানে সন্দেহভাজন শাবু উদ্ধার হয়েছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মাদক আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এমন অভিযান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। মাদক বিক্রির নির্দিষ্ট লেনদেন শনাক্ত করে তা বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটক করা এবং মাদক জব্দ করা—সবই অপরাধ দমনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কিন্তু মাদক সমস্যার ব্যাপ্তি বিচার করতে গেলে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যা দিয়ে সাফল্যের হিসাব করা যথেষ্ট নয়।
মাদকের বাজার কি সত্যিই দুর্বল হচ্ছে?
মাকাতিতে দুইজন, মুন্তিনলুপায় একজন, পাসাইয়ে একজন এবং পাতেরোসে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে মাকাতিতে প্রায় ৪ গ্রাম, মুন্তিনলুপায় ৪ দশমিক ৭ গ্রাম, পাসাইয়ে ৪ দশমিক ৫ গ্রাম এবং পাতেরোসে প্রায় ৩ গ্রাম সন্দেহভাজন শাবু জব্দের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
এসব পরিসংখ্যান পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতার চিত্র দেয়। কিন্তু আরও বড় প্রশ্ন হলো—এই গ্রেপ্তারগুলো মাদক সরবরাহের মূল কাঠামোয় কতটা আঘাত করছে?
একজন বিক্রেতা গ্রেপ্তার হলে তার জায়গায় আরেকজন উঠে আসতে পারে। একটি লেনদেন বন্ধ হলেও অন্য পথে সরবরাহ চলতে পারে। ফলে মাদকবিরোধী অভিযানের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত শুধু কতজন আটক হয়েছে তা দিয়ে নয়, বরং অভিযানগুলো মাদক সরবরাহের বৃহত্তর নেটওয়ার্ককে কতটা ভেঙে দিতে পারছে তার ভিত্তিতে।

অভিযান থেকে বিচার পর্যন্ত
মাদকবিরোধী অভিযানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গ্রেপ্তারের পরের ধাপ। পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফিলিপাইনের রিপাবলিক অ্যাক্ট ৯১৬৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে। এরপর তদন্ত, প্রসিকিউশন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
অর্থাৎ গ্রেপ্তার কোনো মামলার শেষ নয়; বরং আইনি প্রক্রিয়ার শুরু। একটি অভিযান তখনই কার্যকর ফল দেবে, যখন সংগৃহীত প্রমাণ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হবে এবং বিচারব্যবস্থা তার পরবর্তী দায়িত্ব পালন করবে।
একই সঙ্গে মাদক সমস্যার সামাজিক দিকটিও উপেক্ষা করা যায় না। সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং মাদকের চাহিদা কমানোর উদ্যোগ না থাকলে বাজারটি নতুন করে তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।
শুধু পুলিশের অভিযান দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়
নগর এলাকায় মাদক অপরাধ কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা, পরিবার, জনস্বাস্থ্য এবং তরুণদের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে। তাই পুলিশের অভিযান প্রয়োজনীয় হলেও এটি বৃহত্তর কৌশলের একটি অংশ মাত্র।
১৩ আগস্টের অভিযান দেখিয়েছে, এসপিডি বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের প্রশ্নটি আরও কঠিন: একই এলাকায় মাদকের সরবরাহ কি কমছে, নাকি গ্রেপ্তারের পর নতুন মুখ সেই শূন্যস্থান পূরণ করছে?
নীল আলকোবারের প্রতিবেদনের মূল ঘটনাটি তাই ছয়জনের গ্রেপ্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর গভীর তাৎপর্য হলো—মাদকবিরোধী লড়াইকে তাৎক্ষণিক পুলিশি সাফল্যের বাইরে নিয়ে গিয়ে সরবরাহের উৎস, আইনি প্রক্রিয়া এবং সামাজিক পুনর্বাসনের সমন্বিত কাঠামোয় দেখতে হবে।
কারণ মাদকবাজারের কয়েকজন দৃশ্যমান সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া সহজ হতে পারে; কিন্তু সেই বাজারকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করাই আসল পরীক্ষা।
নীল আলকোবার 


















