দেশে চলমান হাম প্রাদুর্ভাবে আবারও একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় এসব মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৫৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ৪ মে একদিনে সর্বোচ্চ ১৭ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। ফলে এটি দ্বিতীয়বারের মতো একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হিসেবে উঠে এলো।
নতুন মৃত্যুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হামে নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ১৬ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে।
মোট মৃত্যুর চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত মোট ৪৫৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী মারা গেছেন। অন্যদিকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮৭ জনে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে টিকাবঞ্চিত শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে।
একদিনে ১ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ১২৭ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৯৪০ জনে।
এছাড়া একই সময়ে নতুন করে ৯৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। ফলে মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ হাজার ৭১৯ জন।
হাসপাতালে চিকিৎসা ও সুস্থতার তথ্য
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫১ হাজার ৫৮৫ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪৭ হাজার ৬১৯ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তবে প্রতিদিনই নতুন রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম জোরদার এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হাম পরিস্থিতি নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















