০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
করাচিতে ‘অনুভূত তাপমাত্রা’ ৪৮ ডিগ্রি, তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ বিশ্বকাপের আগে সাকার চোট নিয়ে সতর্ক ইংল্যান্ড, বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রাখা হবে তারকাকে বেলফাস্টে ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ, উত্তেজনায় জ্বলল সড়ক ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ বিতর্ক, দিল্লিতে মুখোমুখি অবস্থান দুই দেশের ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারে নতুন অধ্যায়, প্রথমবার মোতায়েন ১২ পারমাণবিক ওয়ারহেড আমেরিকার সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল সংকটে, ২০৩২ সালের মধ্যেই ফুরিয়ে যেতে পারে রিজার্ভ ফিলিপাইনের সঙ্গীতের হৃদস্পন্দন: কেন আজও অমলিন ‘ম্যানিলা সাউন্ড’ চীনা অভিনেত্রী ঝাং ইংফেই বললেন, ‘আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নই’ অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে ভবন ধসের ট্র্যাজেডি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত ৪১, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

অ্যালুমিনিয়ামের বাজারে নতুন ভূকম্প: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা

বিশ্ব অর্থনীতির অনেক বড় সংকটই প্রথমে চোখে পড়ে না। বাজারের মূল সূচকগুলো তখনও স্বাভাবিকতার ভান ধরে রাখে, দাম ওঠানামা করে সীমিত পরিসরে, আর বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করেন পরবর্তী সংকেতের। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সরবরাহ শৃঙ্খল যখন ভেঙে পড়তে শুরু করে, তখন তার অভিঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শিল্প, জ্বালানি, পরিবহন ও উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে। অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক বাজার এখন ঠিক এমন এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের শিল্প কাঠামোকে যে মাত্রায় আঘাত করেছে, তার পুরো চিত্র এখনও আন্তর্জাতিক বাজারের মূল দামে প্রতিফলিত হয়নি। কিন্তু যেসব দেশ ও শিল্প প্রতিদিন বাস্তব ধাতু কিনে উৎপাদন চালায়, তারা ইতোমধ্যে বুঝতে শুরু করেছে—এটি সাময়িক ধাক্কা নয়; বরং বহু বছরের স্থিতাবস্থাকে বদলে দিতে পারে এমন এক কাঠামোগত সংকট।

বিশ্বের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে উপসাগরীয় অঞ্চল একটি কেন্দ্রীয় শক্তি। চীনের বাইরে যে বিপুল পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদিত হয়, তার বড় অংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যুদ্ধের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়া শুধু একটি আঞ্চলিক শিল্প সংকট নয়; এটি বৈশ্বিক শিল্প অর্থনীতির জন্যও বড় সতর্কবার্তা।

মিসাইল হামলায় কয়েকটি বড় স্মেল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর উৎপাদন দ্রুত কমে গেছে। কিছু কারখানা আংশিক সক্ষমতায় চলছে, কিছু বন্ধ হওয়ার মুখে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা। যে পথ দিয়ে কাঁচামাল ও প্রস্তুত ধাতুর বিশাল অংশ পরিবাহিত হতো, সেটিই এখন অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে। ফলে শুধু উৎপাদন নয়, সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মক চাপে পড়েছে।

অদ্ভুত বিষয় হলো, লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের মূল দামে এখনও সেই আতঙ্ক পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। দাম কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তা পরিস্থিতির গভীরতার তুলনায় সীমিত। অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক বাজার প্রতিক্রিয়া মনে করতে পারেন। কিন্তু প্রকৃত সংকেত লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়—মজুত কমে যাওয়া, তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত প্রিমিয়াম এবং বাজারের সময়ভিত্তিক মূল্য ব্যবধানের মধ্যে।

বিশ্বজুড়ে গুদাম থেকে দ্রুত অ্যালুমিনিয়াম বের হয়ে যাচ্ছে। যেসব মজুত আগে নিরাপত্তা বাফার হিসেবে বিবেচিত হতো, সেগুলো এখন বাজারের ফাঁক পূরণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, ক্রেতারা ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করছেন না; তারা এখনই ধাতু সংগ্রহে মরিয়া। কারণ উৎপাদন লাইনে কাঁচামাল না পৌঁছালে গাড়ি, নির্মাণসামগ্রী, প্যাকেজিং বা সৌর প্যানেল শিল্পের মতো খাতগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাজারের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বদলে যাওয়া। গত দুই দশক ধরে অ্যালুমিনিয়াম বাজার মূলত অতিরিক্ত সরবরাহ ও উচ্চ মজুতের বাস্তবতায় অভ্যস্ত ছিল। উৎপাদন এত বেশি ছিল যে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা খুব কমই দেখা গেছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো দিকে যাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার কিছু বড় উৎপাদন কেন্দ্রও জ্বালানি ব্যয়ের কারণে সমস্যায় পড়েছে। অর্থাৎ বাজার একই সময়ে একাধিক উৎস থেকে ধাক্কা খাচ্ছে।

চীন অবশ্য উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সেখানেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশটির উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সরকারি সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে চীন পুরো ঘাটতি পূরণ করতে পারবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। উপরন্তু, চীন যে পণ্য রপ্তানি বাড়াচ্ছে, তার বড় অংশই কাঁচা অ্যালুমিনিয়াম নয়; বরং প্রক্রিয়াজাত বা আধা-প্রক্রিয়াজাত পণ্য।

এই সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাত্রাও রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতি সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে অনেক আলোচনা করেছে। কোভিড মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কত বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে শিল্পোন্নত দেশগুলো এখনও কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল ও রুটের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি সেই দুর্বলতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু ধাতু শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, নির্মাণ ও পরিবহন খাত চাপের মুখে পড়বে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের খরচও বাড়তে পারে। অর্থাৎ অ্যালুমিনিয়ামের বাজারে যা ঘটছে, তা শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও শিল্প প্রবৃদ্ধির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বাজারের ইতিহাস বলছে, বড় ধরনের সরবরাহ সংকট শুরুতে প্রায়ই অবমূল্যায়িত হয়। দাম পরে হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো বাড়ে, যখন সবাই একসঙ্গে উপলব্ধি করে যে ঘাটতি আর সাময়িক নয়। অ্যালুমিনিয়ামের বর্তমান পরিস্থিতিও হয়তো সেই দিকেই এগোচ্ছে। কারণ কাগজে-কলমে বাজার এখনও নিয়ন্ত্রিত মনে হলেও বাস্তব শিল্প অর্থনীতি ইতোমধ্যে অন্য গল্প বলা শুরু করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

করাচিতে ‘অনুভূত তাপমাত্রা’ ৪৮ ডিগ্রি, তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ

অ্যালুমিনিয়ামের বাজারে নতুন ভূকম্প: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কীভাবে বদলে দিচ্ছে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা

০৭:৪৭:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

বিশ্ব অর্থনীতির অনেক বড় সংকটই প্রথমে চোখে পড়ে না। বাজারের মূল সূচকগুলো তখনও স্বাভাবিকতার ভান ধরে রাখে, দাম ওঠানামা করে সীমিত পরিসরে, আর বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করেন পরবর্তী সংকেতের। কিন্তু ভেতরে ভেতরে সরবরাহ শৃঙ্খল যখন ভেঙে পড়তে শুরু করে, তখন তার অভিঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শিল্প, জ্বালানি, পরিবহন ও উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে। অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক বাজার এখন ঠিক এমন এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের শিল্প কাঠামোকে যে মাত্রায় আঘাত করেছে, তার পুরো চিত্র এখনও আন্তর্জাতিক বাজারের মূল দামে প্রতিফলিত হয়নি। কিন্তু যেসব দেশ ও শিল্প প্রতিদিন বাস্তব ধাতু কিনে উৎপাদন চালায়, তারা ইতোমধ্যে বুঝতে শুরু করেছে—এটি সাময়িক ধাক্কা নয়; বরং বহু বছরের স্থিতাবস্থাকে বদলে দিতে পারে এমন এক কাঠামোগত সংকট।

বিশ্বের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে উপসাগরীয় অঞ্চল একটি কেন্দ্রীয় শক্তি। চীনের বাইরে যে বিপুল পরিমাণ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদিত হয়, তার বড় অংশ আসে এই অঞ্চল থেকে। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে যুদ্ধের কারণে উৎপাদন কমে যাওয়া শুধু একটি আঞ্চলিক শিল্প সংকট নয়; এটি বৈশ্বিক শিল্প অর্থনীতির জন্যও বড় সতর্কবার্তা।

মিসাইল হামলায় কয়েকটি বড় স্মেল্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর উৎপাদন দ্রুত কমে গেছে। কিছু কারখানা আংশিক সক্ষমতায় চলছে, কিছু বন্ধ হওয়ার মুখে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা। যে পথ দিয়ে কাঁচামাল ও প্রস্তুত ধাতুর বিশাল অংশ পরিবাহিত হতো, সেটিই এখন অনিশ্চয়তার কেন্দ্রে। ফলে শুধু উৎপাদন নয়, সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মক চাপে পড়েছে।

অদ্ভুত বিষয় হলো, লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের মূল দামে এখনও সেই আতঙ্ক পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। দাম কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু তা পরিস্থিতির গভীরতার তুলনায় সীমিত। অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক বাজার প্রতিক্রিয়া মনে করতে পারেন। কিন্তু প্রকৃত সংকেত লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়—মজুত কমে যাওয়া, তাৎক্ষণিক সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত প্রিমিয়াম এবং বাজারের সময়ভিত্তিক মূল্য ব্যবধানের মধ্যে।

বিশ্বজুড়ে গুদাম থেকে দ্রুত অ্যালুমিনিয়াম বের হয়ে যাচ্ছে। যেসব মজুত আগে নিরাপত্তা বাফার হিসেবে বিবেচিত হতো, সেগুলো এখন বাজারের ফাঁক পূরণে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, ক্রেতারা ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করছেন না; তারা এখনই ধাতু সংগ্রহে মরিয়া। কারণ উৎপাদন লাইনে কাঁচামাল না পৌঁছালে গাড়ি, নির্মাণসামগ্রী, প্যাকেজিং বা সৌর প্যানেল শিল্পের মতো খাতগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বাজারের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বদলে যাওয়া। গত দুই দশক ধরে অ্যালুমিনিয়াম বাজার মূলত অতিরিক্ত সরবরাহ ও উচ্চ মজুতের বাস্তবতায় অভ্যস্ত ছিল। উৎপাদন এত বেশি ছিল যে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা খুব কমই দেখা গেছে। কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো দিকে যাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার কিছু বড় উৎপাদন কেন্দ্রও জ্বালানি ব্যয়ের কারণে সমস্যায় পড়েছে। অর্থাৎ বাজার একই সময়ে একাধিক উৎস থেকে ধাক্কা খাচ্ছে।

চীন অবশ্য উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু সেখানেও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দেশটির উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় সরকারি সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে চীন পুরো ঘাটতি পূরণ করতে পারবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। উপরন্তু, চীন যে পণ্য রপ্তানি বাড়াচ্ছে, তার বড় অংশই কাঁচা অ্যালুমিনিয়াম নয়; বরং প্রক্রিয়াজাত বা আধা-প্রক্রিয়াজাত পণ্য।

এই সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাত্রাও রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ব অর্থনীতি সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে অনেক আলোচনা করেছে। কোভিড মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং জ্বালানি সংকট দেখিয়ে দিয়েছে যে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কত বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিন্তু বাস্তবে শিল্পোন্নত দেশগুলো এখনও কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চল ও রুটের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি সেই দুর্বলতাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব শুধু ধাতু শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকবে না। উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, নির্মাণ ও পরিবহন খাত চাপের মুখে পড়বে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের খরচও বাড়তে পারে। অর্থাৎ অ্যালুমিনিয়ামের বাজারে যা ঘটছে, তা শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ও শিল্প প্রবৃদ্ধির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

বাজারের ইতিহাস বলছে, বড় ধরনের সরবরাহ সংকট শুরুতে প্রায়ই অবমূল্যায়িত হয়। দাম পরে হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো বাড়ে, যখন সবাই একসঙ্গে উপলব্ধি করে যে ঘাটতি আর সাময়িক নয়। অ্যালুমিনিয়ামের বর্তমান পরিস্থিতিও হয়তো সেই দিকেই এগোচ্ছে। কারণ কাগজে-কলমে বাজার এখনও নিয়ন্ত্রিত মনে হলেও বাস্তব শিল্প অর্থনীতি ইতোমধ্যে অন্য গল্প বলা শুরু করেছে।