১১:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬
চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম ‘সবাইকে হত্যা করতে হবে’— প্রতিশোধের নামে সহিংসতার পক্ষে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর উসকানি, আতঙ্কে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা এমঅ্যান্ডএসে খোলা-অংশের অন্তর্বাস বিক্রি ঘিরে বিতর্ক: ‘চমক’ নাকি বদলে যাওয়া বাজারের বাস্তবতা? প্রতিশোধের নামে হত্যার আহ্বান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতির বাসিন্দার বিস্ফোরক মন্তব্যে নতুন বিতর্ক ট্রাম্পের নতুন নিশানায় ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’: ইরানের গোপন পারমাণবিক ঘাঁটি নিয়ে কেন বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা? ট্রাম্পের অভিযোগ ভেঙে পড়ল, আদালতে সরকারের স্বীকারোক্তি: ভাঙচুর নয়, তড়িঘড়ি মেরামতের ভুলেই ক্ষতিগ্রস্ত লিংকন রিফ্লেক্টিং পুল গোলাপি ডোরাকাটা রহস্যের অবসান: ৪০ বছরের অনুসন্ধানে মিলল সমুদ্রের নতুন শৈবাল প্রজাতি মৃত্যুর দিকে ছুটে চলা জীবনে থামার সময় কি এখনও আসেনি? প্যাক্স সিলিকা: কর্মসংস্থান নাকি নতুন নির্ভরতা? ফিলিপাইনের সামনে সুযোগের পাশাপাশি বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফর শেষ, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত ৪১, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল দেশটির মিন্ডানাও দ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চল। কম্পনের তীব্রতায় বহু ভবন ধসে পড়ে, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, কিছু দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে এখনও হেলিকপ্টারের সহায়তা নিতে হচ্ছে।

উদ্ধারকাজে বাধা দিচ্ছে আফটারশক

ভূমিকম্পের পর থেকে একের পর এক আফটারশক অনুভূত হচ্ছে। এসব কম্পনের কারণে উদ্ধারকর্মীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক স্থানে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ধীরগতিতে চলছে, কারণ নতুন করে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Doctors treated patients in tents set up under a scorching Philippine sun  on Tuesday—including helping a young mother give birth—as the death toll  from a major earthquake that collapsed buildings topped 40.

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কয়েকটি স্থানে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় অভিযান এখন অনেক ক্ষেত্রে উদ্ধার থেকে মরদেহ অনুসন্ধানে পরিণত হয়েছে।

হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা

ভূমিকম্পে হাসপাতাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক রোগীকে খোলা আকাশের নিচে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কিছু হাসপাতালে ভবনের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ায় রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অস্থায়ী তাঁবুর নিচে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এমনকি এক নারী হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী ব্যবস্থার মধ্যেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে অনেক হাসপাতাল আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে।

ঘরবাড়ি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় বাসিন্দারা

Outdoor hospitals, cut-off communities as Philippine quake toll hits 41 |  International | Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাদের বাড়িঘর এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেখানে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। কোথাও দেয়াল ধসে পড়েছে, কোথাও মাটি ফেটে গেছে। কিছু এলাকায় কাদা ও পানির প্রবাহ বাড়িঘরের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

অনেক পরিবার এখন নতুন করে জীবন শুরু করার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। স্থানীয়দের ভাষায়, এই দুর্যোগ তাদের জীবনকে আবার শূন্যে ফিরিয়ে দিয়েছে।

হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

দুর্যোগের পর প্রায় ৩২ হাজার মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। শত শত পরিবার এখনও খোলা জায়গায় অবস্থান করছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল। যদিও বড় ধরনের সুনামি আঘাত হানেনি, তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে বহু মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

AFP News Agency's Video on X

 

Outdoor hospitals, cut-off communities as Philippine quake toll hits 41

 

জনপ্রিয় সংবাদ

চার শতাব্দী পর ফিরল প্রকৃতির হারানো সন্তান, গ্লেন অ্যাফ্রিকে জন্ম নিল বুনো বিভারের নতুন প্রজন্ম

ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃত ৪১, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

০১:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষ। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল দেশটির মিন্ডানাও দ্বীপের উপকূলীয় অঞ্চল। কম্পনের তীব্রতায় বহু ভবন ধসে পড়ে, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, কিছু দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে এখনও হেলিকপ্টারের সহায়তা নিতে হচ্ছে।

উদ্ধারকাজে বাধা দিচ্ছে আফটারশক

ভূমিকম্পের পর থেকে একের পর এক আফটারশক অনুভূত হচ্ছে। এসব কম্পনের কারণে উদ্ধারকর্মীদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক স্থানে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ ধীরগতিতে চলছে, কারণ নতুন করে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Doctors treated patients in tents set up under a scorching Philippine sun  on Tuesday—including helping a young mother give birth—as the death toll  from a major earthquake that collapsed buildings topped 40.

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কয়েকটি স্থানে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় অভিযান এখন অনেক ক্ষেত্রে উদ্ধার থেকে মরদেহ অনুসন্ধানে পরিণত হয়েছে।

হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসা

ভূমিকম্পে হাসপাতাল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক রোগীকে খোলা আকাশের নিচে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কিছু হাসপাতালে ভবনের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেওয়ায় রোগীদের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অস্থায়ী তাঁবুর নিচে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এমনকি এক নারী হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী ব্যবস্থার মধ্যেই সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কারণে অনেক হাসপাতাল আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে।

ঘরবাড়ি হারিয়ে অনিশ্চয়তায় বাসিন্দারা

Outdoor hospitals, cut-off communities as Philippine quake toll hits 41 |  International | Bangladesh Sangbad Sangstha (BSS)

অনেক বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাদের বাড়িঘর এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেখানে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। কোথাও দেয়াল ধসে পড়েছে, কোথাও মাটি ফেটে গেছে। কিছু এলাকায় কাদা ও পানির প্রবাহ বাড়িঘরের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

অনেক পরিবার এখন নতুন করে জীবন শুরু করার কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। স্থানীয়দের ভাষায়, এই দুর্যোগ তাদের জীবনকে আবার শূন্যে ফিরিয়ে দিয়েছে।

হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

দুর্যোগের পর প্রায় ৩২ হাজার মানুষকে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। শত শত পরিবার এখনও খোলা জায়গায় অবস্থান করছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরতে সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়েছিল। যদিও বড় ধরনের সুনামি আঘাত হানেনি, তবুও নিরাপত্তার স্বার্থে বহু মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

AFP News Agency's Video on X

 

Outdoor hospitals, cut-off communities as Philippine quake toll hits 41