উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে এক নৃশংস ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার শত শত বিক্ষোভকারী বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাতে উত্তর বেলফাস্টে এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। চল্লিশোর্ধ্ব ওই ব্যক্তি এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি রান্নাঘরের ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। হামলাটিকে পুলিশ “নৃশংস” বলে বর্ণনা করেছে।
সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ বছর বয়সী এক সুদানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, জনসমক্ষে ধারালো অস্ত্র বহন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে আবেদন করার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি পান। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ডাবলিন থেকে বেলফাস্টে আসেন।
বিক্ষোভে সহিংসতা
ছুরিকাঘাতের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মুখোশধারী তরুণদের জড়ো হতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাঁজোয়া যান মোতায়েন করে পুলিশ। পূর্ব বেলফাস্টে একটি বাসসহ একাধিক যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়। কিছু এলাকায় বাড়িঘরে হামলা, দরজা ভাঙচুর এবং জানালার কাচ ভাঙার ঘটনাও ঘটে।
শহরের বাইরে লন্ডনেও একটি ছোট দল সংসদ চত্বরের আশপাশে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানায়।

শান্ত থাকার আহ্বান
উত্তর আয়ারল্যান্ড পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নতুন করে সহিংসতা ছড়ালে তা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য আরও ক্ষতিকর হবে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় আহত ব্যক্তির চোখ, মুখ ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে সহায়তা করায় তার জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক নেতাদের উদ্বেগ
উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা যৌথভাবে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা ঘটনাটিকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে সবাইকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তাদের মতে, চলমান উত্তেজনা ও সহিংসতা সমাজে বিভাজন বাড়াবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।
সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন ইস্যু নিয়ে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। বেলফাস্টের এই ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















