যুক্তরাষ্ট্রের কোটি কোটি অবসরপ্রাপ্ত নাগরিকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এখন বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি চলতে থাকলে ২০৩২ সালের শেষ দিকে বা ২০৩৩ সালের শুরুতেই এই কর্মসূচির ট্রাস্ট ফান্ডের রিজার্ভ শেষ হয়ে যেতে পারে।
জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের প্রভাব
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু হওয়ার সময় কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু কয়েক দশকে জন্মহার কমে যাওয়া এবং মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে। বর্তমানে কর্মজীবী ও সুবিধাভোগীর অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে, ফলে তহবিলে যত অর্থ জমা হচ্ছে তার চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
২০১৭ সালে তহবিলের রিজার্ভ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও এরপর থেকে তা ধারাবাহিকভাবে কমছে। এখন অবস্থা এমন যে অবসরভাতা পরিশোধে আয়ের তুলনায় ব্যয় দ্রুত বাড়ছে।

রিজার্ভ শেষ হলে কী হবে
যদি সময়মতো কোনো সংস্কার না আনা হয়, তাহলে অবসরপ্রাপ্তদের জন্য তা বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে। হিসাব অনুযায়ী, তহবিলের রিজার্ভ শেষ হয়ে গেলে সুবিধাভোগীদের অর্থপ্রদান প্রায় ২৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। পরবর্তী বছরগুলোতে এই চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে যে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তা পূরণে সরকারকে অতিরিক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বাজেট পরিস্থিতির ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে।
সংস্কারের নানা প্রস্তাব
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে বড় ধরনের ধাক্কা ছাড়াই সমস্যার সমাধান সম্ভব। কিছু প্রস্তাবে বেতনভিত্তিক কর সামান্য বাড়ানো, বর্তমানে অবদান না রাখা কিছু সরকারি কর্মীকে ব্যবস্থার আওতায় আনা এবং উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য অবসরের বয়স বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

আরেকটি প্রস্তাবে সরকারের বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে শেয়ারবাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, এই পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে কিছু সুবিধা দিতে পারলেও তা স্বল্পমেয়াদে তহবিলের সংকট সমাধান করতে পারবে না।
রাজনৈতিক বাধাই বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন নয়; বরং সবচেয়ে বড় বাধা রাজনৈতিক মতভেদ। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা করে বড় সংস্কার আনা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনমতও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ আমেরিকান সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় বাড়ানোর পক্ষে থাকলেও সুবিধা কমানো বা অবসরের বয়স বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ জনপ্রিয় নয়। ফলে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও জটিল হয়ে উঠছে।
সামনে ছয় বছরের সময়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হলে সরকারকে আরও বেশি ঋণ নিতে হতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর আর্থিক বোঝা বাড়তে পারে। তাই আগামী কয়েক বছরই নির্ধারণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















