০৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
ট্রাম্পের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে প্রশ্ন, ইরান সংঘাতে অপ্রস্তুত সিদ্ধান্তে বাড়ছে সংকট হরমুজ প্রণালীতে ইরানের কৌশল, যুক্তরাষ্ট্রের পথেই পাল্টা চাপ প্যাট্রিস লুমুম্বা হত্যাকাণ্ড: ৬৫ বছর পরও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কঙ্গো তেলের উপর নির্ভরশীল আলাস্কার সংকট: ভর্তুকি নাকি কর—নির্বাচনের আগে কঠিন সিদ্ধান্তে রাজ্য আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা, সক্রিয় করা হলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসরায়েল ও মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাল্টা হামলার হুমকি ইরানের বিশ্লেষণ- হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: পূর্ণ যুদ্ধে নয়, সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালী দিয়ে পাকিস্তানি জাহাজ চলাচলে ইরানের অনুমতি, প্রতিদিন পার হবে দুইটি জাহাজ লেবাননে সাংবাদিক নিহত: ইসরায়েলি হামলা ঘিরে বিতর্ক তেহরানে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা, লক্ষ্য সামরিক অবকাঠামো

আগামী সপ্তাহে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে

বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার আবারও চাপে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের বিস্তার ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আগামী সপ্তাহে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের ওপরে উঠেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের তেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, সেখানে এই দ্রুত বৃদ্ধি বাজারের গভীর অনিশ্চয়তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংঘাতের বিস্তার ও নতুন উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বাহিনী প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

এদিকে ইসরায়েল লেবানন ও বৈরুতে হামলা জোরদার করেছে। ওমানসহ বিভিন্ন বন্দর ও অবকাঠামোতেও বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক পরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Oil Prices Set to Climb as Middle East Conflict Escalates and Supply Risks  Broaden

কূটনীতির ব্যর্থতা, বাজারে অনিশ্চয়তা

মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তাতে বাজারে স্থায়ী স্বস্তি আসেনি। শুরুতে কিছুটা দাম কমলেও পরে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তাগত অমিল ও অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করছে। ফলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে।

১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীলতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে টিকে থাকা বাজারের শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে। এর অর্থ, সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই গভীরভাবে বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে।

তাদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি

দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ দামের আশঙ্কা

আগে যেখানে দ্রুত সমাধানের আশা ছিল, এখন বাজার ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা ধরে নিয়ে হিসাব করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।

সরবরাহ ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ চিত্র

হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা এখনও তেলের দামের বড় নিয়ামক। তবে সাম্প্রতিক হামলা দেখাচ্ছে, ঝুঁকি শুধু সমুদ্রপথে সীমাবদ্ধ নেই; শিল্পাঞ্চল ও সরবরাহ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে।

এই পরিস্থিতিতে পরিষ্কার কোনো শান্তির উদ্যোগ না এলে তেলের দাম আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের যুদ্ধ কৌশল নিয়ে প্রশ্ন, ইরান সংঘাতে অপ্রস্তুত সিদ্ধান্তে বাড়ছে সংকট

আগামী সপ্তাহে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে

০১:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বিশ্বজুড়ে তেলের বাজার আবারও চাপে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাতের বিস্তার ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আগামী সপ্তাহে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারের ওপরে উঠেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রের তেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, সেখানে এই দ্রুত বৃদ্ধি বাজারের গভীর অনিশ্চয়তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সংঘাতের বিস্তার ও নতুন উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দিন দিন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বাহিনী প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

এদিকে ইসরায়েল লেবানন ও বৈরুতে হামলা জোরদার করেছে। ওমানসহ বিভিন্ন বন্দর ও অবকাঠামোতেও বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার ফলে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক পরিবহন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Oil Prices Set to Climb as Middle East Conflict Escalates and Supply Risks  Broaden

কূটনীতির ব্যর্থতা, বাজারে অনিশ্চয়তা

মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও তাতে বাজারে স্থায়ী স্বস্তি আসেনি। শুরুতে কিছুটা দাম কমলেও পরে আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তাগত অমিল ও অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট করছে। ফলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ছে।

১০০ ডলারের ওপরে স্থিতিশীলতা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে টিকে থাকা বাজারের শক্ত অবস্থানকে নির্দেশ করে। এর অর্থ, সংঘাতের প্রভাব ইতিমধ্যেই গভীরভাবে বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে।

তাদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে, একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ডলার সংকটে বেসামাল অর্থনীতি

দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ দামের আশঙ্কা

আগে যেখানে দ্রুত সমাধানের আশা ছিল, এখন বাজার ধীরে ধীরে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা ধরে নিয়ে হিসাব করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে।

সরবরাহ ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ চিত্র

হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা এখনও তেলের দামের বড় নিয়ামক। তবে সাম্প্রতিক হামলা দেখাচ্ছে, ঝুঁকি শুধু সমুদ্রপথে সীমাবদ্ধ নেই; শিল্পাঞ্চল ও সরবরাহ ব্যবস্থাও হুমকির মুখে।

এই পরিস্থিতিতে পরিষ্কার কোনো শান্তির উদ্যোগ না এলে তেলের দাম আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।