নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক নারীকে প্রকাশ্যে মারধরের অভিযোগে স্থানীয় এক যুবদল নেতাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শনিবার সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মো. সফিক ওই ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। মারধরের শিকার নারীর স্বামী অভিযুক্তের মাছের খামারে কাজ করতেন।
বেতন নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
ভুক্তভোগী গৃহবধূর দাবি, তার স্বামী গত দুই মাস ধরে সফিকের অধীনে কাজ করলেও বেতন পাননি। বকেয়া বেতন চাইতে গেলে সফিক অভিযোগ করেন, তার স্বামী মাদক সেবনে টাকা খরচ করেছেন। ঈদুল আজহার সময়ও বেতন না পাওয়ায় পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে তিনি তার স্বামীকে ওই খামারের কাজে যেতে নিষেধ করেন, যা নিয়ে অভিযুক্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার বর্ণনা
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে বাড়ির পাশের নদীতে বসানো একটি রিং জাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা বাধা দেন। এ সময় তার স্বামীকে মারধর করা হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্ত তার এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে এসে আবারও তার স্বামীকে মারধর করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধরের শিকার হতে হয়।
এ ঘটনার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনা দেখা দেয়।
পাল্টা বক্তব্য অভিযুক্তের
অভিযুক্ত মো. সফিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক ছিল। কয়েক দিন আগে ওই নারীর স্বামী তার বোনের বসতঘরের দরজা খোলার চেষ্টা করেন এবং মাছ চুরির ঘটনাও ঘটান বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সফিকের ভাষ্য, শনিবার সকালে জাল নিয়ে আসার সময় ওই নারী ও তার স্বামী তাকে আক্রমণ করেন এবং এতে তিনি আহত হন। তার নাক ফেটে যায় বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনগত পদক্ষেপের অপেক্ষা
ঘটনার বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশ্যে সংঘটিত এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















