আদ্-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার পেছনে ‘কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে’, তবে তিনি কোনো ধরনের প্রলোভনে সাড়া দেননি।
শনিবার নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে আপস করবে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতে দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কাজ করছে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে মন্তব্য
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটির পক্ষ থেকে তাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তিনি কোনো ধরনের আর্থিক প্রলোভনে না পড়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে তাকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক মহল বর্তমানে হাসপাতালটির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য খাতে নতুন পরিকল্পনা
বক্তৃতায় দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের কয়েকটি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চীনের সহযোগিতায় দেশে তিন হাজার শয্যার দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, এসব হাসপাতালে নারী ও শিশুদের জন্য উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। বৃহৎ পরিসরের এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার উদ্যোগ
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষামূলকভাবে একটি নতুন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের বাড়িতে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করবেন।
তিনি বলেন, রোগীর অবস্থা মূল্যায়নের পর প্রয়োজন হলে তাকে হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হবে। এর ফলে হাসপাতালের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা সহজে পেতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুদান বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দুই শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন। এছাড়া তিনি বৃক্ষরোপণ ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















