বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ ও প্রযুক্তি সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে গেমিং শিল্পেও। জাপানের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সনি তাদের জনপ্রিয় গেমিং কনসোল প্লেস্টেশন ৫–এর দাম আবারও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। এক বছরেরও কম সময়ে এটি দ্বিতীয়বারের মতো দাম বৃদ্ধি।
যুক্তরাষ্ট্রে বড় মূল্যবৃদ্ধি
সনি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্লেস্টেশন ৫–এর দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত বাড়ানো হবে। নতুন মূল্য ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এতে স্ট্যান্ডার্ড সংস্করণের দাম দাঁড়াবে ৬৪৯.৯৯ ডলার, যা আগে ছিল ৫৪৯.৯৯ ডলার। ডিজিটাল সংস্করণের দাম হবে ৫৯৯.৯৯ ডলার। অন্যদিকে উচ্চমানের প্লেস্টেশন ৫ প্রো মডেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৯৯.৯৯ ডলার।
শুধু কনসোল নয়, প্লেস্টেশন পোর্টাল রিমোট প্লেয়ারের দামও বাড়ছে। এটি এখন ১৯৯.৯৯ ডলার থেকে বেড়ে ২৪৯.৯৯ ডলার পৌঁছাবে।

দাম বাড়ার মূল কারণ
এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মেমোরি চিপসহ গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের দাম বৃদ্ধি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো তৈরির প্রতিযোগিতায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বেশি লাভজনক ডেটা সেন্টার চিপ উৎপাদনে মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে ভোক্তাপণ্য, বিশেষ করে গেমিং কনসোলের জন্য চিপের সরবরাহ কমে গেছে।
সনি জানিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যয় ও চাপ বিবেচনা করে সতর্কভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই ধরনের মূল্যবৃদ্ধি ইউরোপ ও জাপানেও কার্যকর হবে।
বাজারে প্রভাবের আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, কনসোলের দাম বাড়লে চলতি বছরে ভিডিও গেম বাজারের প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই গেমিং কোম্পানিগুলো ধীরগতির বিক্রির চাপ অনুভব করছে। জনপ্রিয় গেম নির্মাতা একটি বড় প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি প্রায় এক হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে কনসোল বিক্রি কমে যাওয়াকে উল্লেখ করেছে।

বিক্রি কমছে প্লেস্টেশন ৫
গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছুটির মৌসুমে প্লেস্টেশন ৫–এর বিক্রি আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমে ৮০ লাখ ইউনিটে নেমে এসেছে। প্রায় ছয় বছর আগে বাজারে আসা এই কনসোলের চাহিদা ধীরে ধীরে কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পরিসংখ্যান।
আগেও দাম বাড়ানো হয়েছে
এর আগে গত বছরের আগস্টে সনি যুক্তরাষ্ট্রে প্লেস্টেশন ৫–এর দাম প্রায় ৫০ ডলার বাড়িয়েছিল। একই সময়ে মাইক্রোসফটও তাদের এক্সবক্স কনসোলের দাম বাড়ায়, যা দেখায় পুরো গেমিং শিল্পই ব্যয়বৃদ্ধির চাপে রয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















