১২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
৭৭০ কোটির ঝড়, ‘ধুরন্ধর ২’ ছুঁতে চলেছে নতুন ইতিহাস প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকার সামনে বোমা হামলার চেষ্টা নস্যাৎ, একজন আটক যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভের ঢেউ: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভ, নতুন সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আইএমএফের সঙ্গে সমঝোতা, পাকিস্তানে আসছে ১২০ কোটি ডলার: অর্থনীতিতে স্বস্তি, সামনে নতুন ঝুঁকি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ধসের মুখে, বাধ্যতামূলক নিয়োগ বিলম্বে বাড়ছে সংকট যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘আলোচনা’ আসলে ছদ্ম কূটনীতি, বিশ্বজুড়ে বড় সংকটের আশঙ্কা সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কাজের অভিযোগ, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের সাবেক কর্মকর্তা গাজায় আবার রক্তপাত, হামলায় নিহত ৩ ফিলিস্তিনি—বিরতির মাঝেই নতুন উত্তেজনা এফবিআই প্রধানের ব্যক্তিগত ইমেইল হ্যাক, ফাঁস হলো ছবি ও গোপন বার্তা—সাইবার যুদ্ধে নতুন উত্তেজনা ইরান যুদ্ধের এক মাসে ট্রাম্পের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত, বিশ্ব জ্বালানি সংকটে নতুন চাপ

ইরানের পারমাণবিক সংকট থামাতে আমেরিকার সামনে তিন রাস্তা, শেষ পর্যন্ত কি আবারও চুক্তির পথেই সমাধান?

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বহু বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার অন্যতম বড় উদ্বেগ। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে—ইরানের পারমাণবিক হুমকি যদি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বাকি পথ কী? বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক আঘাত সাময়িক ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন।

পারমাণবিক কর্মসূচিই ইরানকে বিপজ্জনক করে তুলেছে

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার নানা বিতর্কিত দিক থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রচেষ্টা। দীর্ঘদিন ধরে তেহরান দাবি করে এসেছে তারা বোমা বানাতে চায় না, কিন্তু অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কার্যক্রম সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এই কর্মসূচিকে ঘিরেই ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার এবং ইসরায়েলের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলার কৌশল তৈরি করেছে বলে মনে করা হয়। তাই ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত যদি সামান্য সফলতাও এনে দিতে চায়, তবে তা ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনাকে বহু বছর পিছিয়ে দিতে হবে।

Iran's new supreme leader has yet to appear, and the system may not need  him to | CNN

নতুন নেতৃত্ব ও প্রতিশোধের রাজনীতি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তিনি তার পূর্বসূরি পিতার চেয়েও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।

যুদ্ধের ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের ভেতরে এমন যুক্তি শক্তিশালী হতে পারে যে, পারমাণবিক অস্ত্রই শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে। ফলে সামরিক আঘাত অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করলেও নেতৃত্ব হয়তো ঝুঁকি নিতে রাজি থাকবে।

আরও বড় উদ্বেগ হলো, দেশে প্রায় চারশ কিলোগ্রাম উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা প্রায় দশটি বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট। এই উপাদান যদি একটি শত্রুভাবাপন্ন শাসনের হাতে থাকে, অথবা বিশৃঙ্খলার মধ্যে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সামরিক অভিযানের কঠিন বাস্তবতা

আমেরিকার সামনে প্রথম বিকল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে এই পারমাণবিক উপাদান জব্দ করা। কিন্তু এ ধরনের অভিযান বাস্তবে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

Large US special ops force would be needed on ground to seize Iran's  uranium - ABC News

এতে কয়েকদিনের জন্য বড় আকারের সামরিক উপস্থিতি, হাজারের বেশি সৈন্যের সুরক্ষা এবং অবিরাম আকাশ সহায়তা প্রয়োজন হবে। তাছাড়া তথ্য অনুযায়ী ইউরেনিয়াম একাধিক স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, ফলে সবকিছু উদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে।

বারবার যুদ্ধের পথও অনিশ্চিত

দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো, যখনই ইরান হুমকি সৃষ্টি করবে তখনই তাকে লক্ষ্য করে আঘাত করা। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে এই কৌশল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে অকার্যকর হতে পারে।

ইরান তার অপেক্ষাকৃত সাধারণ প্রযুক্তির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অর্থনীতিগুলোর স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিও এতে নড়বড়ে হয়ে যায়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ হয়তো এমন এক ধারাবাহিক যুদ্ধে সমর্থন দেবে না, যেখানে প্রতিটি সংঘর্ষ কেবল সাময়িক বিরতি তৈরি করে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আনে না।

Iran 'Rejects' Ending 20 Percent Uranium Enrichment Before U.S. Lifts  Sanctions

শেষ পর্যন্ত কি আবারও চুক্তি?

এই প্রেক্ষাপটে তৃতীয় পথ হিসেবে সামনে আসে নতুন একটি পারমাণবিক চুক্তি। যদিও এটি সহজ কোনো সমাধান নয়। ইরানের নেতৃত্ব চুক্তি প্রত্যাখ্যান করতে পারে, কিংবা চুক্তি করেও গোপনে নিয়ম ভাঙতে পারে।

তবুও অনেক বিশ্লেষকের মতে এটিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প। কারণ যুদ্ধের পর ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পুনর্গঠনের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার তাদের জরুরি প্রয়োজন।

একটি সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে পারে, আন্তর্জাতিক নজরদারি মেনে নিতে পারে এবং উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম কমিয়ে বা সরিয়ে ফেলতে পারে। এটি হয়তো আদর্শ সমাধান নয়, কিন্তু সংঘাত কমানোর বাস্তব উপায় হতে পারে।

Iran on brink of rejecting US proposal on nuclear programme | Iran nuclear  programme | The Guardian

ইতিহাসও এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। দুই হাজার পনের সালে এমন একটি অস্থায়ী চুক্তি হয়েছিল, যা পরে বাতিল হয়ে যায়। এখন আবারও সেই ধরনের সমঝোতার কথাই আলোচনায় ফিরে আসছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কোন পথে

সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, সামরিক শক্তি দিয়ে পারমাণবিক সংকটের স্থায়ী সমাধান করা কঠিন। দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে হলে কূটনৈতিক পথ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমন্বয় দরকার।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে এই টানাপোড়েন শুধু একটি দেশের নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার ভবিষ্যতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

৭৭০ কোটির ঝড়, ‘ধুরন্ধর ২’ ছুঁতে চলেছে নতুন ইতিহাস

ইরানের পারমাণবিক সংকট থামাতে আমেরিকার সামনে তিন রাস্তা, শেষ পর্যন্ত কি আবারও চুক্তির পথেই সমাধান?

০৪:০০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বহু বছর ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার অন্যতম বড় উদ্বেগ। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে—ইরানের পারমাণবিক হুমকি যদি পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বাকি পথ কী? বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক আঘাত সাময়িক ক্ষতি করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা অত্যন্ত কঠিন।

পারমাণবিক কর্মসূচিই ইরানকে বিপজ্জনক করে তুলেছে

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার নানা বিতর্কিত দিক থাকলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো তাদের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের প্রচেষ্টা। দীর্ঘদিন ধরে তেহরান দাবি করে এসেছে তারা বোমা বানাতে চায় না, কিন্তু অস্ত্রমানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কার্যক্রম সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এই কর্মসূচিকে ঘিরেই ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার এবং ইসরায়েলের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলার কৌশল তৈরি করেছে বলে মনে করা হয়। তাই ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত যদি সামান্য সফলতাও এনে দিতে চায়, তবে তা ইরানের পারমাণবিক পরিকল্পনাকে বহু বছর পিছিয়ে দিতে হবে।

Iran's new supreme leader has yet to appear, and the system may not need  him to | CNN

নতুন নেতৃত্ব ও প্রতিশোধের রাজনীতি

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তিনি তার পূর্বসূরি পিতার চেয়েও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের ব্যাপারে বেশি আগ্রহী।

যুদ্ধের ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের ভেতরে এমন যুক্তি শক্তিশালী হতে পারে যে, পারমাণবিক অস্ত্রই শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে। ফলে সামরিক আঘাত অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করলেও নেতৃত্ব হয়তো ঝুঁকি নিতে রাজি থাকবে।

আরও বড় উদ্বেগ হলো, দেশে প্রায় চারশ কিলোগ্রাম উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, যা প্রায় দশটি বোমা তৈরির জন্য যথেষ্ট। এই উপাদান যদি একটি শত্রুভাবাপন্ন শাসনের হাতে থাকে, অথবা বিশৃঙ্খলার মধ্যে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

সামরিক অভিযানের কঠিন বাস্তবতা

আমেরিকার সামনে প্রথম বিকল্প হিসেবে আলোচনায় এসেছে বিশেষ বাহিনী পাঠিয়ে এই পারমাণবিক উপাদান জব্দ করা। কিন্তু এ ধরনের অভিযান বাস্তবে অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ।

Large US special ops force would be needed on ground to seize Iran's  uranium - ABC News

এতে কয়েকদিনের জন্য বড় আকারের সামরিক উপস্থিতি, হাজারের বেশি সৈন্যের সুরক্ষা এবং অবিরাম আকাশ সহায়তা প্রয়োজন হবে। তাছাড়া তথ্য অনুযায়ী ইউরেনিয়াম একাধিক স্থানে লুকিয়ে রাখা হয়েছে, ফলে সবকিছু উদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে।

বারবার যুদ্ধের পথও অনিশ্চিত

দ্বিতীয় সম্ভাবনা হলো, যখনই ইরান হুমকি সৃষ্টি করবে তখনই তাকে লক্ষ্য করে আঘাত করা। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে এই কৌশল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদে অকার্যকর হতে পারে।

ইরান তার অপেক্ষাকৃত সাধারণ প্রযুক্তির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অর্থনীতিগুলোর স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিও এতে নড়বড়ে হয়ে যায়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমেরিকার রাজনৈতিক বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ হয়তো এমন এক ধারাবাহিক যুদ্ধে সমর্থন দেবে না, যেখানে প্রতিটি সংঘর্ষ কেবল সাময়িক বিরতি তৈরি করে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আনে না।

Iran 'Rejects' Ending 20 Percent Uranium Enrichment Before U.S. Lifts  Sanctions

শেষ পর্যন্ত কি আবারও চুক্তি?

এই প্রেক্ষাপটে তৃতীয় পথ হিসেবে সামনে আসে নতুন একটি পারমাণবিক চুক্তি। যদিও এটি সহজ কোনো সমাধান নয়। ইরানের নেতৃত্ব চুক্তি প্রত্যাখ্যান করতে পারে, কিংবা চুক্তি করেও গোপনে নিয়ম ভাঙতে পারে।

তবুও অনেক বিশ্লেষকের মতে এটিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বিকল্প। কারণ যুদ্ধের পর ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পুনর্গঠনের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার তাদের জরুরি প্রয়োজন।

একটি সম্ভাব্য সমঝোতার আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে পারে, আন্তর্জাতিক নজরদারি মেনে নিতে পারে এবং উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম কমিয়ে বা সরিয়ে ফেলতে পারে। এটি হয়তো আদর্শ সমাধান নয়, কিন্তু সংঘাত কমানোর বাস্তব উপায় হতে পারে।

Iran on brink of rejecting US proposal on nuclear programme | Iran nuclear  programme | The Guardian

ইতিহাসও এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। দুই হাজার পনের সালে এমন একটি অস্থায়ী চুক্তি হয়েছিল, যা পরে বাতিল হয়ে যায়। এখন আবারও সেই ধরনের সমঝোতার কথাই আলোচনায় ফিরে আসছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কোন পথে

সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে, সামরিক শক্তি দিয়ে পারমাণবিক সংকটের স্থায়ী সমাধান করা কঠিন। দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনতে হলে কূটনৈতিক পথ, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমন্বয় দরকার।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে এই টানাপোড়েন শুধু একটি দেশের নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার ভবিষ্যতের সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।