ইরানের রাজধানী তেহরানে সরকারপন্থী বিক্ষোভ চলার মধ্যেই শহরজুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে আমেরিকা ঘোষণা করেছে, আগামী কয়েক দিন ইরানের ওপর আরও তীব্র হামলা চালানো হবে। ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত ক্রমেই বড় আকার নিচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে।
তেহরানে বিস্ফোরণ, রাস্তায় সরকারপন্থী সমাবেশ
শুক্রবার তেহরানে কুদস দিবস উপলক্ষে বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এই দিনটি রমজানের শেষ শুক্রবারে ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানানোর প্রতীক হিসেবে পালন করা হয়। সমাবেশে অংশ নেওয়া মানুষজন আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং সরকারপন্থী ব্যানার প্রদর্শন করেন।
এই সমাবেশ চলাকালেই তেহরানের আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ইরানে সাত হাজার ছয়শরও বেশি হামলা চালিয়েছে এবং বেশিরভাগ হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের একটি ঘটনায় সমাবেশের কাছে অন্তত একজন নারী নিহত হয়েছেন।

আরও তীব্র হামলার ঘোষণা আমেরিকার
আমেরিকার প্রতিরক্ষা প্রধান বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর আজ পর্যন্ত যে কোনও দিনের তুলনায় শুক্রবার ইরানের ওপর সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হবে। তার দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাও আহত হয়েছেন এবং তার শরীরে গুরুতর ক্ষত রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহে ইরানের ওপর আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। একই সময়ে রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যাতে যুদ্ধের কারণে বেড়ে যাওয়া জ্বালানির দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
ইরানের অভিযোগ, দেশ ভেঙে দিতে চায় শত্রুরা
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, আমেরিকা ও ইসরায়েলের লক্ষ্য হলো ইরান এবং বড় ইসলামি দেশগুলোকে দুর্বল করা এবং ভেঙে ফেলা। তিনি বলেন, শত্রুরা নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করছে।

সমাবেশে উপস্থিত জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের শীর্ষ কর্মকর্তা আলি লারিজানি বলেন, এই হামলাগুলো ভয়ের বহিঃপ্রকাশ এবং মরিয়া পদক্ষেপ। তার মতে, শত্রুরা ইতিমধ্যেই তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
ইসরায়েলে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
তেহরানের সমাবেশের কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে জানানো হয়েছে। পরে তেল আবিবের উপকণ্ঠে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
তবে এর আগে ইসরায়েলের একটি শহরে ইরানের হামলায় প্রায় ষাট জন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাস্থলের ছবিতে পোড়া গাড়ি এবং বড় বড় গর্ত দেখা গেছে।
যুদ্ধের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে

ইরানের বিভিন্ন শহরে যুদ্ধের প্রভাব ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক শহরে খাবার ও ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে এবং রুটির মতো মৌলিক খাদ্যও এখন নির্দিষ্ট পরিমাণে দেওয়া হচ্ছে।
পশ্চিম ইরানের একটি শহরের এক নারী জানান, তেহরান থেকে বহু মানুষ আশ্রয়ের জন্য অন্য শহরে চলে আসছেন। ফলে খাবার ও ওষুধের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে এবং দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
ইরাকে মার্কিন সামরিক বিমানের দুর্ঘটনা
এদিকে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি অন্য একটি বিমানের সঙ্গে জড়িত থাকলেও এটি শত্রুপক্ষের হামলার কারণে ঘটেনি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ক্রমেই নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে পুরো অঞ্চলজুড়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















