রমজানের ২৭তম রাত এবং আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহে বিশেষ নিরাপত্তা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জননিরাপত্তা জোরদার করা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং পুরো আমিরাতজুড়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা
শারজাহ পুলিশ জানিয়েছে, এবারের পরিকল্পনা একটি সমন্বিত নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও সামাজিক সহায়তা ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা টহল ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ দল বাড়ানো হয়েছে।
বিশেষ করে যেসব মসজিদে তারাবি, তাহাজ্জুদ এবং ঈদের নামাজে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন, সেসব স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এতে করে যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়া সহজ হবে এবং ভিড়ের সময় শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

বাজার ও বিপণিকেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি
রমজানের শেষ দিনগুলোতে ঈদের কেনাকাটা বাড়ার কারণে বাজার ও বিপণিকেন্দ্রগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়ে যায়। এ কারণে এসব এলাকায়ও নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের আশা, এতে যানজট কমবে এবং সড়ক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত সদস্যদের সমন্বয়
এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শারজাহ পুলিশ তাদের সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করছে। প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি ও নজরদারি ক্যামেরা ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে যেকোনো ঘটনা বা অভিযোগ দ্রুত শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

শারজাহ পুলিশের অপারেশন ও নিরাপত্তা সহায়তা বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার স্টাফ ওমর আল গাজাল আল শামসি জানান, ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়াই পুলিশের অন্যতম অগ্রাধিকার। মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
জনসচেতনতার আহ্বান
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পুলিশের কাজ নয়, বরং এটি সমাজের সবার যৌথ দায়িত্ব। জনগণকে সড়ক নির্দেশনা মেনে চলতে, শিশুদের প্রতি নজর রাখতে এবং আতশবাজি বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রশাসনের আশা, এই সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে রমজানের শেষ রাতগুলো এবং ঈদের সময় শারজাহে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















