০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস

পেশোয়ার কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানে কূটনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন

পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আফগান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই কনস্যুলেট দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কাঠামোতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।

আফগান যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র

পেশোয়ার কনস্যুলেট একসময় আফগানিস্তান সীমান্তের সবচেয়ে কাছের মার্কিন কূটনৈতিক মিশন ছিল। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরুর আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান অপারেশন ও লজিস্টিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

আফগানিস্তানে স্থলপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও পেশোয়ার ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক এবং সহায়তা প্রার্থীদের জন্যও এই কনস্যুলেট ছিল প্রধান যোগাযোগ কেন্দ্র।

What is the mission of the U.S. Department of State? - The National Museum  of American Diplomacy

ব্যয় সাশ্রয়ের পরিকল্পনা

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে পেশোয়ার কনস্যুলেট বন্ধ করলে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলার ব্যয় সাশ্রয় হবে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

এই সিদ্ধান্ত মূলত দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ কিংবা পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

কূটনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন

গত বছর মার্কিন প্রশাসন পররাষ্ট্র দপ্তরের বড় ধরনের পুনর্গঠন শুরু করে। এতে হাজার হাজার কূটনৈতিক কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অনেক কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

পেশোয়ার কনস্যুলেটই প্রথম বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, যা এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হচ্ছে।

US shuts Peshawar Consulate, ends critical Afghan Border Presence -  Pakistan Observer

কর্মী ও সরঞ্জাম স্থানান্তর

বর্তমানে পেশোয়ার কনস্যুলেটে ১৮ জন মার্কিন কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা এবং ৮৯ জন স্থানীয় কর্মী কাজ করেন। কনস্যুলেট বন্ধের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ লাখ ডলার ব্যয় হবে।

এই ব্যয়ের একটি বড় অংশ ব্যবহার করা হবে অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত সাঁজোয়া ট্রেলার স্থানান্তরের জন্য। এছাড়া কনস্যুলেটের যানবাহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও অফিস সামগ্রী ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরের কনস্যুলেটে সরিয়ে নেওয়া হবে।

সেবা দেবে ইসলামাবাদ দূতাবাস

US to permanently close Peshawar consulate near Afghan border | The  Business Standard

পেশোয়ার কনস্যুলেট বন্ধ হয়ে গেলেও মার্কিন নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সেবা চালু থাকবে। এসব সেবা পরিচালনা করবে ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

পেশোয়ার থেকে প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার দূরে থাকা এই দূতাবাসই ভবিষ্যতে পাকিস্তানে মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা, বিদেশি সহায়তা কর্মসূচির তদারকি এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়

বিশ্লেষকদের মতে, পেশোয়ার কনস্যুলেট বন্ধ হওয়া শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি ও কৌশল পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান ইস্যুতে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা

পেশোয়ার কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানে কূটনৈতিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন

০৫:১৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আফগান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত এই কনস্যুলেট দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কাঠামোতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে।

আফগান যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র

পেশোয়ার কনস্যুলেট একসময় আফগানিস্তান সীমান্তের সবচেয়ে কাছের মার্কিন কূটনৈতিক মিশন ছিল। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরুর আগে, চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে এটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান অপারেশন ও লজিস্টিক ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

আফগানিস্তানে স্থলপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও পেশোয়ার ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক এবং সহায়তা প্রার্থীদের জন্যও এই কনস্যুলেট ছিল প্রধান যোগাযোগ কেন্দ্র।

What is the mission of the U.S. Department of State? - The National Museum  of American Diplomacy

ব্যয় সাশ্রয়ের পরিকল্পনা

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সম্প্রতি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে পেশোয়ার কনস্যুলেট বন্ধ করলে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলার ব্যয় সাশ্রয় হবে। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তানে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

এই সিদ্ধান্ত মূলত দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ কিংবা পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে হওয়া বিক্ষোভের সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।

কূটনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন

গত বছর মার্কিন প্রশাসন পররাষ্ট্র দপ্তরের বড় ধরনের পুনর্গঠন শুরু করে। এতে হাজার হাজার কূটনৈতিক কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অনেক কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।

পেশোয়ার কনস্যুলেটই প্রথম বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, যা এই পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হচ্ছে।

US shuts Peshawar Consulate, ends critical Afghan Border Presence -  Pakistan Observer

কর্মী ও সরঞ্জাম স্থানান্তর

বর্তমানে পেশোয়ার কনস্যুলেটে ১৮ জন মার্কিন কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তা এবং ৮৯ জন স্থানীয় কর্মী কাজ করেন। কনস্যুলেট বন্ধের প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ লাখ ডলার ব্যয় হবে।

এই ব্যয়ের একটি বড় অংশ ব্যবহার করা হবে অস্থায়ী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত সাঁজোয়া ট্রেলার স্থানান্তরের জন্য। এছাড়া কনস্যুলেটের যানবাহন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও অফিস সামগ্রী ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং করাচি ও লাহোরের কনস্যুলেটে সরিয়ে নেওয়া হবে।

সেবা দেবে ইসলামাবাদ দূতাবাস

US to permanently close Peshawar consulate near Afghan border | The  Business Standard

পেশোয়ার কনস্যুলেট বন্ধ হয়ে গেলেও মার্কিন নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সেবা চালু থাকবে। এসব সেবা পরিচালনা করবে ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

পেশোয়ার থেকে প্রায় ১৮৪ কিলোমিটার দূরে থাকা এই দূতাবাসই ভবিষ্যতে পাকিস্তানে মার্কিন নাগরিকদের সহায়তা, বিদেশি সহায়তা কর্মসূচির তদারকি এবং কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন অধ্যায়

বিশ্লেষকদের মতে, পেশোয়ার কনস্যুলেট বন্ধ হওয়া শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি ও কৌশল পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশেষ করে আফগানিস্তান ইস্যুতে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে।