মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় অনেক বাসিন্দা দ্রুত দুবাই ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু এই তাড়াহুড়োর মাঝেই বড় সংকটে পড়েছে অসংখ্য পোষা প্রাণী। প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলো বলছে, শহরজুড়ে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে পরিত্যক্ত কুকুর-বিড়াল ও অন্যান্য পোষা প্রাণীর সংখ্যা।
হঠাৎ বেড়েছে পরিত্যক্ত প্রাণীর সংখ্যা
দুবাইয়ের বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও উদ্ধার সংগঠন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাদের কাছে বিপুল সংখ্যক প্রাণী আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ আসছে। অনেক পরিবার দেশ ছাড়ার তাড়ায় নিজেদের পোষা প্রাণী রেখে চলে যাচ্ছে।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, শুধু কুকুর বা বিড়াল নয়—মাছ, কচ্ছপের মতো ছোট প্রাণীকেও ফেলে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এতে শহরের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চাপ বেড়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় ধারণক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে চাপ বাড়ছে
দুবাইয়ের পরিচিত প্রাণী উদ্ধার সংস্থাগুলোর একটি জানিয়েছে, পোষা প্রাণী মালিকদের কাছ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য অনুরোধ আসছে—কেউ প্রাণীটি জমা দিতে চাইছেন, আবার কেউ বিদেশে যাওয়ার আগে নতুন মালিক খুঁজে দিতে সাহায্য চাইছেন।
সংস্থাগুলোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে অনেক বাসিন্দা দ্রুত অন্য দেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। কিন্তু বিদেশে প্রাণী নিয়ে যাওয়ার জটিল নিয়ম ও খরচের কারণে অনেকেই শেষ পর্যন্ত প্রাণীগুলোকে রেখে যাচ্ছেন।
পশু চিকিৎসকদের কাছেও বাড়ছে অস্বাভাবিক অনুরোধ
দুবাইয়ের কিছু পশু চিকিৎসক জানিয়েছেন, সম্প্রতি অনেক মালিক তাদের পোষা প্রাণীকে স্থায়ীভাবে ঘুম পাড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইছেন। তাদের দাবি, বিদেশে নিয়ে যাওয়ার খরচ বেশি, কাগজপত্র জটিল এবং সব ফ্লাইটে প্রাণী নেওয়ার সুযোগ নেই।
চিকিৎসকদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে সুস্থ প্রাণীকেও এভাবে শেষ করে দেওয়ার অনুরোধ এসেছে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে উদ্বেগজনক ছবি
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ছবিতে দেখা গেছে, খাবার বা পানির ব্যবস্থা ছাড়াই কুকুরকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে যাওয়া হয়েছে। কোথাও আবার তীব্র গরমের মধ্যে রাস্তার পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় প্রাণী পড়ে আছে।
স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, অনেক বাড়ির সামনে বা আশ্রয়কেন্দ্রের বাইরে বাক্সে করে বিড়াল ও বাচ্চা কুকুর রেখে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। একটি ঘটনায় এক উদ্ধারকর্মী একটি বাক্সে একটি বিড়াল ও তার চারটি বাচ্চাকে পরিত্যক্ত অবস্থায় খুঁজে পান।
আশ্রয় খুঁজতে হিমশিম স্বেচ্ছাসেবীরা
পরিত্যক্ত প্রাণীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উদ্ধার সংগঠনগুলো এখন অস্থায়ী আশ্রয় ও পালক পরিবার খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। স্থানীয় সামাজিক মাধ্যমেও শত শত পোস্ট দেখা যাচ্ছে, যেখানে স্বেচ্ছাসেবীরা প্রাণীগুলোর ছবি শেয়ার করে মানুষকে দত্তক নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অঞ্চল ছাড়ার সময় অনেক বাসিন্দা গাড়িতে করে সীমান্তের দিকে যাওয়ার পথে মরুভূমির সড়কের ধারে প্রাণীগুলোকে ফেলে যাচ্ছেন।
প্রাণী অধিকারকর্মীরা বলছেন, যুদ্ধ বা অনিশ্চয়তার সময় গৃহপালিত প্রাণীগুলোই সবচেয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। দুবাইয়ের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো আগে থেকেই সীমিত সক্ষমতায় চলছিল, তার ওপর হঠাৎ করে এত প্রাণী এসে পড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
মানুষ চলে যায়, অসহায় থেকে যায় প্রাণীরা
প্রাণী কল্যাণ সংগঠনগুলোর মতে, আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার সময় অনেকেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন, আর সেই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয় পোষা প্রাণীগুলো। তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















