০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা ট্রাম্পের প্রতি ইউরোপের বদলে যাওয়া মনোভাব, ভেঙে পড়ছে পুরোনো নির্ভরতা ইরান যুদ্ধ: সাম্রাজ্য পতনের ইঙ্গিত নয়, বরং পুরোনো নীতির পুনরাবৃত্তি চীনে যাচ্ছে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জোরদারে নতুন উদ্যোগ গোয়েন্দা কনানের বিস্ময়কর সাফল্য: ছোট্ট গোয়েন্দা থেকে বিশ্বজোড়া বক্স অফিস জাদু বই ‘রেভোলুসি’ ফিরে এল নিজভূমিতে: তরুণ প্রজন্ম, স্মৃতি ও বান্দুংয়ের চেতনা নিয়ে ডেভিড ভ্যান রেইব্রুক মার্কিন অবরোধ, উত্তেজনা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা: ইরানকে ঘিরে নতুন সংঘাতের বিস্তার সীমা পুনর্নির্ধারণ, জাতিগত গণনা ও সংরক্ষণ বিল ঘিরে বিরোধীদের আপত্তি; ১৫ এপ্রিলের বৈঠকের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোট দিয়েছি, তবু ‘সন্দেহভাজন’ ভোটার কেন? ২৫০ আসনে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগুচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস

নির্বাচনের আগে নতুন চাল মমতার: পাঁচ সম্প্রদায়ের জন্য উন্নয়ন বোর্ড ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ সামনে আনছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই এবার পাঁচটি আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার।

এই ঘোষণা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। শাসকদল একে উন্নয়নের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে এটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল।

পাঁচ সম্প্রদায়ের জন্য নতুন বোর্ড

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মুণ্ডা, কোরা, ডোম, কুম্ভকার ও সদগোপ সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হবে। এর মধ্যে মুণ্ডা ও কোরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, ডোম তফসিলি জাতিভুক্ত এবং কুম্ভকার ও সদগোপ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অংশ।

রাজ্য সরকারের দাবি, এই বোর্ডগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

আগেও গঠিত হয়েছে একাধিক বোর্ড

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যে বিশটিরও বেশি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এসব বোর্ড সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী অধিকার সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিরোধীদের অভিযোগ ভোটের রাজনীতি

তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘোষণাকে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ভোটব্যাংক শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই ধরনের বোর্ডের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

বিরোধীদের আরও অভিযোগ, আগে গঠিত অনেক বোর্ডের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং বাস্তবে এসব উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের উন্নয়নে তেমন প্রভাব ফেলেনি।

রাষ্ট্রপতি সফর ঘিরে বিতর্কের পর নতুন পদক্ষেপ

সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পশ্চিমবঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পরই এই ঘোষণা সামনে এসেছে। ওই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই প্রেক্ষাপটে এই নতুন উন্নয়ন বোর্ড ঘোষণাকে অনেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখছেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজের হাতে শেখা থেকে জেনেভার মঞ্চে: চীনা ঘড়িনির্মাতা কিয়ান গুওবিয়াওর নতুন যাত্রা

নির্বাচনের আগে নতুন চাল মমতার: পাঁচ সম্প্রদায়ের জন্য উন্নয়ন বোর্ড ঘোষণা

০৫:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই নতুন রাজনৈতিক পদক্ষেপ সামনে আনছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই এবার পাঁচটি আদিবাসী ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার।

এই ঘোষণা ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। শাসকদল একে উন্নয়নের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের আগে এটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল।

পাঁচ সম্প্রদায়ের জন্য নতুন বোর্ড

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মুণ্ডা, কোরা, ডোম, কুম্ভকার ও সদগোপ সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য পৃথক সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হবে। এর মধ্যে মুণ্ডা ও কোরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, ডোম তফসিলি জাতিভুক্ত এবং কুম্ভকার ও সদগোপ অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অংশ।

রাজ্য সরকারের দাবি, এই বোর্ডগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

আগেও গঠিত হয়েছে একাধিক বোর্ড

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যে বিশটিরও বেশি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, এসব বোর্ড সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।

সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী অধিকার সংরক্ষণ এবং সামগ্রিক সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বিরোধীদের অভিযোগ ভোটের রাজনীতি

তবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এই ঘোষণাকে সরাসরি নির্বাচনী রাজনীতির অংশ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ভোটব্যাংক শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই ধরনের বোর্ডের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।

বিরোধীদের আরও অভিযোগ, আগে গঠিত অনেক বোর্ডের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং বাস্তবে এসব উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের উন্নয়নে তেমন প্রভাব ফেলেনি।

রাষ্ট্রপতি সফর ঘিরে বিতর্কের পর নতুন পদক্ষেপ

সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পশ্চিমবঙ্গ সফর ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের পরই এই ঘোষণা সামনে এসেছে। ওই সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা দেখা যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেই প্রেক্ষাপটে এই নতুন উন্নয়ন বোর্ড ঘোষণাকে অনেকেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখছেন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।