মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। ইসরায়েলের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তেল আবিবে ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন, যা সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েলে মোট নিহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রতিশোধের বার্তা নিয়ে ইরানের হামলা
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই হামলা ছিল সরাসরি প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। ক্লাস্টার ওয়ারহেড এমন ধরনের বিস্ফোরক যা আকাশে ছড়িয়ে পড়ে একাধিক ছোট বোমায় বিভক্ত হয়ে বড় এলাকায় আঘাত হানে। ফলে এসব হামলা প্রতিহত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধাক্কা
ইরান সরকার নিশ্চিত করেছে, ইসরায়েলের হামলায় দেশটির নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি নিহত হয়েছেন। একই হামলায় তার ছেলে ও উপদেষ্টাও প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতাও নিহত হন বলে জানানো হয়, যা দেশটির নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করেছে।
উত্তেজনা কমাতে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই শান্তি বা যুদ্ধবিরতির সময় নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে পরাজিত না করা পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় যেতে রাজি নয় তেহরান। ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আঞ্চলিক ঝুঁকি ও পারমাণবিক উদ্বেগ
ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র বুশেহর পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছাকাছি আঘাত হানলেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মহল সতর্ক করে বলছে, এ ধরনের সংঘাত পারমাণবিক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ইরান হুমকি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হবে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও মিত্রদের দ্বিধা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ন্যাটোসহ অনেক দেশ সরাসরি সংঘাতে জড়াতে অনাগ্রহ দেখিয়েছে। ইউরোপীয় নেতারাও বলছেন, যুদ্ধের বদলে কূটনৈতিক সমাধানই এখন জরুরি।
বিশ্বজুড়ে প্রভাব বাড়ছে
এই সংঘাত ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তেল স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক এলাকায় হামলার সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে কোটি কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিমান চলাচলেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















