জাপানে দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদের দখলে থাকা সামুদ্রিক পরিবহন ও নির্মাণ শিল্পে ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন নারীরা। সংখ্যায় এখনও কম হলেও দৃঢ় সংকল্প, পারিবারিক সহায়তা এবং ব্যক্তিগত লড়াইয়ের মাধ্যমে অনেক নারী এগিয়ে যাচ্ছেন নেতৃত্বের পথে।
কম উপস্থিতি, তবু এগিয়ে চলা
সরকারি জরিপ অনুযায়ী, ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিবহন ও নির্মাণ খাতে নারীর অংশগ্রহণ ২০ শতাংশেরও কম, যেখানে সব শিল্প মিলিয়ে এই হার ৪০ শতাংশের বেশি। তবু বাস্তবতার সীমাবদ্ধতা ভেঙে অনেক নারী নিজেদের জন্য নতুন পথ তৈরি করছেন, যা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইতিহাস গড়া নারী ক্যাপ্টেন
নাওমি মাতসুশিতা জাপানের একটি বড় শিপিং প্রতিষ্ঠানের জাহাজের প্রথম নারী ক্যাপ্টেন হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। ছোটবেলা থেকেই সমুদ্রজীবনের প্রতি আকর্ষণ তাকে এই পেশায় নিয়ে আসে। কঠিন বাস্তবতা ছিল—সেই সময় নারীদের জন্য সমুদ্রযাত্রার সুযোগ ছিল খুবই সীমিত।
তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা অর্জন করে প্রতিষ্ঠানে নিজের জায়গা তৈরি করেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। পরিবার, বিশেষ করে মায়ের সহায়তা তাকে এই দীর্ঘ যাত্রায় শক্তি জুগিয়েছে।
তিনি মনে করেন, জাহাজে কাজ করার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, সবাই পেশাদার হিসেবে সমান। সামনে তিনি আরও বড় দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, যেখানে নারীদের জন্য সুযোগ ও সংযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবেন।
লক্ষ্য বাড়ছে, বদলাচ্ছে পরিবেশ
প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নারী নাবিকের হার ৭ শতাংশের কিছু বেশি থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩৫ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্যই ইঙ্গিত দিচ্ছে, সমুদ্রজীবনের কর্মপরিবেশ ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।
নির্মাণক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী নারী
কিয়োকো ইউরি, একজন নির্মাণ ব্যবস্থাপক, যিনি বড় অবকাঠামো প্রকল্পে কাজ করছেন। কর্মজীবনের শুরুতেই তাকে একটি হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়, যেখানে নিরাপদ ও কার্যকর কর্মপরিবেশ তৈরি করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
নিজের কাজ সফলভাবে শেষ করে তিনি আত্মবিশ্বাস অর্জন করেন। ভবিষ্যতে আরও বড় দায়িত্ব নিয়ে নির্মাণক্ষেত্রে অবদান রাখতে চান তিনি।

চ্যালেঞ্জের মাঝেও এগিয়ে যাওয়ার বার্তা
ক্যারিয়ার ও পরিবার—দুটির ভারসাম্য নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও ইউরি কখনও থেমে যাননি। নতুন প্রজন্মের নারী কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ধৈর্য ধরে এগিয়ে গেলে একসময় নিজের পথ তৈরি হয়ে যায়।
বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী, যা পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রমাণ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















