ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে এক অদ্ভুত তথ্যযুদ্ধ সামনে এসেছে, যেখানে বাস্তবতা ও মিথ্যার সীমারেখা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি তার একটি ভাষণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশের পর সেটিকে কৃত্রিমভাবে তৈরি বলে দাবি করে কিছু অনলাইন অ্যাকাউন্ট, যাদের অনেকের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে বিশ্ব রাজনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।
ভিডিও নিয়েও সন্দেহের ঝড়
গত সপ্তাহে ইসরায়েলি জনগণের উদ্দেশে দেওয়া নেতানিয়াহুর একটি ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে কিছু ব্যবহারকারী দাবি করেন, ভিডিওটি কৃত্রিমভাবে তৈরি। এমনকি তার হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে বলেও প্রচার চালানো হয়, যদিও যাচাইকারীরা এই দাবি ভুল প্রমাণ করেন। তবুও সন্দেহ থামেনি।
)
এই পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু দুই দিন পর একটি কফিশপ থেকে নতুন ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নিজ হাতে পাঁচটি আঙুল দেখিয়ে জীবিত থাকার প্রমাণ দেন। এ ঘটনা বর্তমান সময়ের তথ্যযুদ্ধের এক নতুন বাস্তবতা তুলে ধরে।
বাস্তবকেও মিথ্যা বলার প্রবণতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন শুধু ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করাই নয়, বরং সত্যিকারের ভিডিওকেও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। এই প্রবণতাকে বলা হচ্ছে ‘মিথ্যা সুবিধা’, যেখানে সন্দেহ সৃষ্টি করে বাস্তব ঘটনাকেও অস্বীকার করা সহজ হয়ে যাচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ চলাকালে হাজার হাজার ছবি ও ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, যার মধ্যে অনেকই সত্য এবং অনেকই কৃত্রিম। সাধারণ মানুষের পক্ষে এগুলোর পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে বাস্তব ঘটনার প্রমাণও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
যুদ্ধক্ষেত্রেও তথ্য বিভ্রান্তি
![]()
ইরানে বিক্ষোভ চলাকালে একটি ভিডিও ব্যাপক আলোড়ন তোলে, যেখানে এক প্রতিবাদকারী শান্তভাবে বসে থাকলেও সশস্ত্র পুলিশ তাকে ঘিরে ফেলে। ভিডিওটি সত্য বলে নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও সরকারপন্থী কিছু গোষ্ঠী এটিকে কৃত্রিম বলে দাবি করে।
এমনকি সাম্প্রতিক হামলায় একটি স্কুল ধ্বংস হয়ে বহু মানুষ নিহত হওয়ার ভিডিওও অনেকে ভুয়া বলে প্রচার করেছে। এতে বাস্তব মানবিক বিপর্যয়ের তথ্যও সন্দেহের মুখে পড়ছে।
প্রযুক্তির দ্বিমুখী ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন দ্বিমুখী অস্ত্র হয়ে উঠেছে। একদিকে এটি ভুয়া কনটেন্ট তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছে, অন্যদিকে একই প্রযুক্তির কারণে সত্য ঘটনাও অস্বীকার করা সহজ হয়ে যাচ্ছে।
গবেষকরা সতর্ক করছেন, এই পরিস্থিতি অবিশ্বাসের এক পরিবেশ তৈরি করছে, যেখানে যেকোনো পক্ষ নিজেদের সুবিধামতো তথ্যকে সত্য বা মিথ্যা হিসেবে তুলে ধরতে পারে।

সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তির বিস্তার
নেতানিয়াহুর কফিশপ ভিডিও নিয়েও বিতর্ক থামেনি। কেউ কেউ দাবি করেন, এটি পুরনো ছবি থেকে তৈরি। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর একটি চ্যাটব্যবস্থাও ভুলভাবে ভিডিওটিকে ভুয়া বলে উল্লেখ করে, যা লাখো মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ধরনের ঘটনা দেখাচ্ছে, তথ্য যাচাই করা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ মানুষের জন্য তা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















