ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের নাজুক সম্পর্ক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বহু প্রতীক্ষিত শীর্ষ বৈঠকও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। দুই পরাশক্তির মধ্যে তৈরি হওয়া সাময়িক সমঝোতা যুদ্ধের চাপে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শীর্ষ বৈঠক স্থগিতের ইঙ্গিত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তিনি মাসের শেষে চীন সফর স্থগিত করতে চান। এর আগে তিনি চীনের কাছে পারস্য উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর দাবি জানান, যাতে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা গুরুত্বপূর্ণ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা যায়। এই দাবির সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে দেন তিনি।
চীনের শীতল প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের আহ্বানে চীন খুবই সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি না দিয়ে সব পক্ষকে দ্রুত সামরিক কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। চীনা বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমে এই প্রস্তাবকে অযৌক্তিক বলেও সমালোচনা করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা যুদ্ধে অন্যদের টেনে আনার চেষ্টা চলছে।
ইরান-চীন সম্পর্কের গুরুত্ব
চীনের জন্য ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। ফলে এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার কোনো আগ্রহ বেইজিংয়ের নেই। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধজাহাজ পাঠানো মানে হবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া, যা চীন এড়িয়ে চলতে চায়। তাদের দৃষ্টিতে এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ, চীনের সমস্যা নয়।
অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব
তবে সংঘাতের প্রভাব চীনের ওপরও পড়ছে। দেশটির প্রায় চল্লিশ শতাংশ তেল আমদানি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে আসে। যুদ্ধের কারণে অনেক জাহাজ আটকে পড়েছে এবং তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বেইজিংকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে।
কূটনৈতিক ভারসাম্য খোঁজার চেষ্টা
বিশ্লেষকদের ধারণা, চীন সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নিয়ে কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবে। একদিকে ইরানের ওপর নরম চাপ সৃষ্টি, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির দিকে ঠেলে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে পারে তারা। এতে করে একদিকে উত্তেজনা কমবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের অবস্থানও শক্তিশালী হবে।
বৈঠক বিলম্বে চীনের কৌশলগত সুবিধা
শীর্ষ বৈঠক পিছিয়ে যাওয়া চীনের জন্যও কিছুটা সুবিধাজনক হতে পারে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়বে, যা বাণিজ্য ও কূটনৈতিক আলোচনায় চীনের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে পারে। ফলে পরিস্থিতি জটিল হলেও বেইজিং এটিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করার সুযোগ দেখছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















